ছেলের সঙ্গে কিশোরদের দ্বন্দ্ব, হামলায় প্রাণ গেল কৃষক দল নেতার
নোয়াখালীর দাদপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে বাড়িতে শোরগোল শুনে দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান সেলিম।
নোয়াখালীতে ‘সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে’ ছেলেদের ওপর স্থানীয় কিশোরদের হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কৃষক দলের এক নেতা।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সুধারাম থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম।
নিহত মো. সেলিম (৫০) ওই গ্রামের প্রয়াত মো. শাহজানের ছেলে। তিনি দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। বাড়ির পাশে তার দোকান আছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সেলিমের ছোট ছেলে অন্তরের সঙ্গে একই এলাকার এক কিশোরের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয়ে কয়েকদিন আগে দ্বন্দ্ব হয়। এ সময় একে অপরকে দেখা নেওয়ার হুমকি দেয়।
শনিবার দুপুরে প্রথমে মোবাইলে অন্তরের সঙ্গে সেই কিশোরের বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই কিশোর আরও কয়েকজন কিশোরকে নিয়ে মো. সেলিমের বাড়ির সামনে এসে তার ছেলে অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বাড়িতে এমন শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান সেলিম। এ সময় কিশোররা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
দ্রুত ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ছেলে শাকিল বলেন, “পূর্ব বিরোধের জের ধরে কিশোর চক্রের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চাই।”
এদিকে তার ওপর হামলার খবর পেয়ে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ফজলে এলাহী পলাশসহ কৃষক দলের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ছুটে যান।
এ সময় দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কৃষি কাজের পাশাপাশি বাড়ি পাশে দোকান করতেন সহজ সরল সেলিম। তিনি কৃষক দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি।
নোয়াখালী জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব সদস্য সচিব জি এস আব্দুজ্জাহের হারুন এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমরা নোয়াখালী জেলা কৃষক দল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অনতিবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জোর দাবি জানাই।”
ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
