Published : 12 Mar 2026, 09:50 AM
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অন্যতম যাতায়াত পথ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে ঘাটের অবকাঠামোগত সমস্যা এখনও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ফেরি ঘাটের পন্টুনে ওঠার রাস্তা বা ‘স্লোপ’ (ঢাল) ও সরু সড়ক নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাম হোসেন বলছেন, এবারের ঈদযাত্রায় প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখা হচ্ছে না।
প্রতি বছর ঈদের সময় এই দুই নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ সামাল দিতে ফেরি ও লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো, ঘাট সংস্কার এবং টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, “পাটুরিয়ায় চারটি ঘাট সংস্কার করা হয়েছে। আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের ঘাটেও প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ হয়েছে।
“ঈদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের জন্যও ঘাটগুলো উপযোগী করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে মূলত চারটি ফেরি ঘাট ও একটি লঞ্চ ঘাট ব্যবহার হয়। পদ্মা সেতু চালুর আগে স্বাভাবিক সময়ে তিন হাজারের মতো যানবাহন পার হতো, এখন এ পরিমাণ যানবাহন পারাপার হয় শুধু ঈদের সময়।
অন্যদিকে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে একটি ফেরি ঘাট ও একটি লঞ্চ ঘাট ব্যবহার হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের ১ নম্বর ঘাট বন্ধ। বর্তমানে ২, ৩, ৪, ৫ নম্বর ঘাট ব্যবহার হয়। বিশেষ করে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাটে পন্টুন সংলগ্ন সড়ক সরু ও খাঁড়া হওয়ায় ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বেড়ে পারাপারে কিছুটা ভোগান্তি দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে ৫ নম্বর ঘাটে কথা হয় কুষ্টিয়াগামী যাত্রী খোরশেদ আলমের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, “এবার এতো উঁচু খাঁড়া স্লোপ করে ঘাট তৈরি করেছে, উঠতে অনেক কষ্ট হবে।”
পদ্মা সেতু চালুর আগে দুর্ভোগ নিয়ে এই পথে নদী পারাপার হতেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। সেতু হওয়ার পর মূলত পণ্যবাহী ট্রাক এ রুটে বেশি পারাপার হয়ে থাকে।
তবে প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ধামরাই, আশুলিয়া ও সাভারের পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন কারখানার কর্মীরা এ রুট ব্যবহার করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যান।

তারা লোকাল বাস করে ঘাটে আসেন। পরে ফেরি ও লঞ্চে পার হয়ে অন্য গাড়িতে নিজ নিজ জেলায় যান। আবার ছুটি শেষে একইভাবে কর্মস্থলে ফেরেন।
পাটুরিয়া লঞ্চঘাট বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজার ফারক হোসেন বলেন, “গত বর্ষায় লঞ্চঘাট নদীতে বিলীন হলে পাশে অস্থায়ী লহঘাট তৈরি করেছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে ঘাটে এসে লঞ্চে উঠতে বয়স্কদের একটু সমস্যা হতে পারে।
“তবে বিআইডব্লিউটিএ এর ঘাট সংস্কার করা এখনো শেষ হয়নি, হয়তো তারা ঈদের আগে এ সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেবে আশা করছি।”
রাজবাড়ীর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট দিয়ে নিয়মিত পারাপার হন আবুল হোসেন। তিনি বলেন, “বর্ষায় ঘাট বিলীন হলে আবার যেহেতু ঘাট তৈরি করেছে, আরো একটু ভালো করে করা উচিত ছিল।”

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাম হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে স্বাভাবিক সময়ে তিন হাজারের মতো যানবাহন প্রতিদিন পার হতো। আর ঈদযাত্রায় তা প্রতিদিন ছয়-সাত হাজার যানবাহন পারাপার করানো হত।
“এখন বারো থেকে পনের’শ যানবাহন পারাপার হয়। এখন আর তেমন চাপ নেই; ঈদের সময় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার যানবাহন পারাপার হয়।”
এবারের ঈদযাত্রার প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির এ কর্মকর্তা বলেন, “ঈদের সময় যাতে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
“পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে স্বাভাবিক সময়ে ১২টি ফেরি চলাচল করলেও ঈদকে সামনে রেখে ১৭টি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আর আরিচা-কাজিরহাট পাঁচটি ফেরি রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এই দুই নৌরুটে মোট ২২টি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

“আশা করি এবার স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে মানুষ নির্বিঘ্নেই বাড়ি ফিরতে পারবে”, যোগ করেন তিনি।
ঈদযাত্রায় ফেরি সংকট এড়াতে নৌরুটে থাকা রো রো ফেরিগুলো (বড় ফেরি) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার ও মেরামত করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘রো রো’ ফেরি এনায়েতপুরীর ইঞ্জিন মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ফেরিটির ইঞ্জির মেকানিক জীবন মিয়া বলেন, “রো রো ফেরি এনায়েতপুরী দুই-একদিনের মধ্যে ট্রাফিকে যুক্ত হবে।”