Published : 28 Apr 2026, 09:54 PM
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঘরে সন্তানের এবং রেললাইনে বাবার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের বড় ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগর হাকিম জুবায়ের রশিদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মামলার একমাত্র আসামি সাইফুর রহমান সোহান (২৮)।
তিনি নিহত সোহেল রানার (৫০) বড় ছেলে। পরিবারের ছোট ছেলে সাকিবুর রহমানের (১৮) লাশও রোববার ভোরে টঙ্গীর বনমালা এলাকার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সিসিটিভি ভিডিও, ঘটনাপ্রবাহ এবং সোহানের আচরণ পর্যালোচনা করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার আটক করা হয়েছিল। পরে সোহেল রানার বোনের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে উপ-কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সোহানের সঙ্গে তার এক নিকটাত্মীয় নারীর সম্পর্ক ছিল। তাদের বিয়েও ঠিক হয়। কিন্তু এর মধ্যেই সোহান জানতে পারেন, ১০ বছরের বড় ওই নারীর সঙ্গে ছোট ভাই সাকিবুরের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
“বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। শনিবার রাতে এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সোহান ছোট ভাই সাকিবের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। সাকিবের মুখ চেপে ধরে, হাত-পা বেঁধে ব্লেড দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে তাকে হত্যা করা হয়।”
তিনি বলেন, এ সময় পাশের ঘরে থাকা তাদের বাবা সোহেল রানা বিষয়টি দেখে ফেলেন। পরে সোহান বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে রেললাইনে নিয়ে যায়।
“সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে, সোহান বাবাকে সেখানে রেখে আসেন। কিছুক্ষণ পর ট্রেন সোহেল রানার উপর দিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।”
উপ-কমিশনার বলেন, “সোহেল রানার নিহতের ঘটনা দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা- তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “ঘটনার পর সোহানের আচরণ ছিল সন্দেহজনক। তিনি পালিয়ে যাননি, বরং আত্মীয়দের ফোন করে ঘটনা জানাতে থাকেন। কিন্তু তার কথাবার্তা ও ঘটনার মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।”
সোহেল রানা আগে বিদেশে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে টঙ্গীতে এক কাঠা জমি কিনে দুই কক্ষের একটি টিনশেড ঘর তৈরি করে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। প্রায় দেড় বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান।
ছোট ছেলে সাকিবুর রহমান ঢাকার একটি কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং পাশাপাশি একটি দোকানে কাজ করতেন।
আরও পড়ুন: