Published : 13 Jun 2026, 07:39 PM
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়ক ছয় লেইন করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আগামী দিনে এ মহাসড়ককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরে শিগগির স্বল্প প্রশস্ত এ সড়ককে ছয় লেইন করার কাজ শুরুর কথা বলেন তিনি।
একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকসহ দেশের সবার ভাগ্য বদলাতে সরকার কাজ করছে বলে তুলে ধরেন তিনি।
একদিনের সফরে কক্সবাজারে এসে দিনের অন্যান্য কর্মসূচি শেষে চকরিয়ায় জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার রাতে পৌর বাস টার্মিনালের সামনের এ সমাবেশ মঞ্চে গিয়ে পৌঁছান সরকারপ্রধান। সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। জেলা বিএনপি আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বক্তৃতা দিতে আসেন তারেক রহমান।
তার বক্তব্য শুনতে হাজারো মানুষ সভাস্থলে অপেক্ষা করছেন বিকাল থেকে।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘বিমানবন্দর থেকে আসার পথে আমি সালাহউদ্দিন আহমদ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম যে এই সোজা রাস্তাটা কোথায় গেছে? তখন সালাহউদ্দিন সাহেব বললেন এই রাস্তাটা সোজা চলে গেছে চট্টগ্রামে। আমি তখন তাকে বললাম এই রাস্তা তো আজকে থেকে ২৫ বছর আগে যা দেখে গেছি আজকেও তো একই রকম রয়ে গেছে।
‘‘কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে এই যে সোজা রাস্তাটি চলে গেছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তাটিও আগামী দিনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তাটি অন্ততপক্ষে চার থেকে ছয় লেইন হওয়া উচিত। এই রাস্তার কাজ আমরা ইনশআল্লাহ দ্রুতই হাত দিব। চট্টগ্রাম টু কক্সবাজারের যেই রাস্তাটি সেটি আমরা চার থেকে ছয় লেইন করবো ইনশাআল্লাহ।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজকে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। মাতারবাড়ি বন্দর কয়েকদিন পর চালু হবে। আমরা একনেকে পাস করেছি আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালী যে রাস্তাটা এটিকে আমরা ইনশাল্লাহ বড় করব।”
মাতামুহুরী উপজেলা ও থানা উদ্বোধন করে জনসভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
এদিন সকালে আকাশপথে কক্সবাজারে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এরপর সরকারপ্রধান পিএমখালী ইউনিয়নে পাতিলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন, অংশ নেন সুধী সমাবেশে।

‘জনসভায় বিলম্বের কারণ বললেন প্রধানমন্ত্রী’
বিকাল থেকে চকরিয়ার জনসভা স্থলে অপেক্ষা করছিলেন হাজারো মানুষ। তারেক রহমান যখন পৌঁছান তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। বক্তব্যের সময় এর কারণ তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “এই যে আপনারা অনেকক্ষণ ধরে যেমন অপেক্ষা করছেন… সেই কক্সবাজার এয়ারপোর্ট থেকে নামার পরে পেকুয়াসহ যেখানে যেখানে গেছি প্রত্যেকটা জায়গায় এই আধা মাইল পরপর মানুষ অপেক্ষা করছে। সব মানুষের সাথে একটু হাত নেড়ে আসতে হয় তাই না?
‘‘না হলেতো, তাদেরও মন খারাপ হবে। কাজেই এরকম করতে করতে দেরি হয়ে গেল।“
পরে এ এলাকার মানুষের লবণ চাষে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘ঈদের আগে আমি যখন পত্রিকায় খবরটি পড়লাম যে কৃষক লবণ চাষি তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সঠিকভাবে পায় না। তখন আমি তখন আমি কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দিলাম যে, আপনারা বসেন, বসে বের করেন কীভাবে কৃষকদেরকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সঠিকভাবে দিতে পারি?
“ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে একটি দাম নির্ধারণ করব যাতে চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পায়।”
নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সবসময় কক্সবাজারের মানুষজন ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এটি জনগণের পক্ষের বাজেট’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাজেটে আমরা কী করেছি? সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যের ওপর কর উঠিয়ে নিয়েছি। এই বাজেটে আমরা সাধারণ মানুষের যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডাল, তেল, চিনি, নুন, লবণ এই যে জিনিসগুলো মসলা এইগুলোর উপরে আগে যে কর ছিল সেই কর আমরা উঠিয়ে নিয়েছি যাতে করে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে।
‘‘যে বাজেটে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না সেই বাজেট কি জনগণের পক্ষের বাজেট না বিপক্ষের বাজেট? জনগণের পক্ষের বাজেট। ‘’
প্রস্তাবিত বাজেটের বিপক্ষে বিরোধী দলের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘যারা মদের উপরে করের প্রতিবাদ জানায়, সিগারেটের উপরে কর বাড়লে প্রতিবাদ জানায় তারা কি জনগণের জন্য রাজনীতি করে? তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।
‘‘আমরা নির্বাচনের আগেও দেখেছি এরা জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকেট বিক্রি করতে। আপনারা দেখেছিলেন না। এখন আর টিকেট বিক্রির কথা বলে না। কেন বলে না কারণ ওই টিকেট দেওয়ার মালিক বা ক্ষমতা তাদের নেই। তারা জনগণকে ঠকিয়ে শুধু জনগণের ভোটটা নিতে চেয়েছিল, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। এরা জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে।”
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
মানুষের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সমালোচনা শুনতে হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটি কি বাংলাদেশের মানুষের জন্য? স্বার্থের পক্ষে নাকি স্বার্থের বিরুদ্ধে? স্বার্থের পক্ষে।

“বাজেটের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করছে, রাজপথে বাজেটের বিপক্ষে কথা বলছেন তারা স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলে।”
সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বক্তব্য রাখেন।
জনসভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে একদিনের এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। পরে পেকুয়া উপজেলায় জুলাই শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন তিনি।
পরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরকারপ্রধান। চকরিয়ার জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারে লং বিচ হোটেলে সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন। এ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে ঢাকায় ফিরবেন।
দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডন থাকার পরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্ব দেশে ফেরন তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে তারেক রহমানের এটিই প্রথম কক্সবাজার সফর।