মানিকগঞ্জে বিকালে উচ্ছেদ, সন্ধ্যায় ফের দখল

হকারদের দাবি, ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের দিকে তাকিয়ে বাধ্য হয়ে ফের দোকানপাট বসিয়েছেন তারা।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 March 2024, 06:02 AM
Updated : 29 March 2024, 06:02 AM

মানিকগঞ্জ শহরের প্রবেশপথে যানজট নিরসনে ও যাতায়াতের সুবিধার্থে অবৈধ স্থাপনা ও হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভিযান শেষ হতেই সড়ক ও ফুটপাত ফিরে যায় পুরানো রূপে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও পৌর সুপার মার্কেটের সামনের সড়ক ও ফুটপাতে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানান প্যানেল মেয়র তসলিম মিয়া।

এ সময় শতাধিক হকার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

প্যানেল মেয়র তসলিম মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্থায়ী কিছু ব্যবসায়ী ফুটপাত ও সড়কের একাংশ দখল করে ব্যবসা করে আসছেন। যাতায়াতের সুবিধার্থে ও যানজট নিরসন করতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে তাই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জহিরুল আলম, পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ মো. তসলিম মিয়াসহ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা এবং থানা পুলিশ ও পৌরসভার কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও পৌর সুপার মার্কেটের সামনের সড়ক, হাসপাতাল গেটসহ আশপাশের ফুটপাত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযান শেষ হতেই হকাররা পাল্লা দিয়ে নিজেদের দোকানপাট বসানোর কাজ শুরু করেছেন।

এরমধ্যেই কয়েকজন ভ্যান-ট্রলি নিয়ে নিজেদের ভাসমান দোকান বসিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বেচাকেনা শুরু করে দিয়েছেন।

এছাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার হোটেল ব্যবসায়ীরাও নিজেদের হোটেলের সামনের ফুটপাত দখল করে টেবিলসহ জিনিসপত্র বসিয়ে পথচারীদের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করছেন।

হকাররা জানান, এখন রোজা চলছে, রোজায় পরিবারের সদস্যদের খাবার, চিকিৎসা ও পোশাক, বাচ্চাদের পড়ালেখা ও অন্যান্য খরচসহ সব মিলিয়ে প্রচুর খরচ। তাছাড়া সামনে ঈদ। ঈদে পরিবারের লোকজনকে কিছু হলেও কেনাকাটা করে দিতে হবে।

তাদের দাবি, এমন সময়ে তাদের উচ্ছেদ করার ফলে তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। পরিবারের দিকে তাকিয়ে বাধ্য হয়ে ফের দোকানপাট বসিয়েছেন তারা।

এদিকে পুনরায় দখলের বিষয়ে প্যানেল মেয়র তসলিম মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, হকাররা পুনরায় ফুটপাত দখল করলে দুয়েক দিনের মধ্যে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।