Published : 24 Feb 2026, 09:10 PM
আওয়ামী লীগ নেতার জামিনকে কেন্দ্র করে বরিশালে দুটি আদালতে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। পরে একটি আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতে হট্টগোলও হয়েছে।
বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনার সময় এজলাসের বেঞ্চ ও কিছু আসবাপত্র এলেমেলো করে ফেলা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এজলাস ছেড়ে যান বিচারক।
ঘটনার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির একটি দল এজলাস থেকে আলামত সংগ্রহ করে। তবে বিষয়টি নিয়ে আদালত সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলতে চাননি।
মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নাজির কামরুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। স্যারদের (বিচারক) কোনো নির্দেশনা নেই। এটা উচ্চ পর্যায়ে চলে গেছে। তারা এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেটাই পালন করব।”

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “আইনজীবীরা আদালতে কর্মসূচি পালন করছেন শুনে এসেছিলাম। এসে দেখি পরিস্থিতি শান্ত।”
আদালতে হট্টগোলের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “এজলাসে তখন আদালত পুলিশ ছিল, এ ব্যাপারে তারা ভালো বলতে পারবেন।”
আর আদালত পুলিশের পরিদর্শক তারক বিশ্বাস বলেন, “আমি কিছু বলতে পারব না।”
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে সোমবার জামিন দেয় একটি আদালত।
এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম এবং অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
এর পর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য আবুল কালাম আজাদ ইমন বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন মঞ্জুরের প্রতিবাদে দুই বিচারকের অপসারণের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আদালত বর্জন করেন। তারা আদালত পাড়ায় বিক্ষোভ করেন।

“এর পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর দায়রা জজ দাবির বিষয়টি দেখবেন জানিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন। আমরা জানিয়েছি, এটা সভা করে কর্মসূচি দিয়েছি। তাই সভা করে বিষয়টি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুপুর ২টার মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা ছিল।”
আইনজীবী বলেন, “সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে আইনজীবী সমিতি, পিপিসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে না জানিয়ে এজলাসে কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ সময় আইনজীবীরা গিয়ে বাধা দেন। তাদের বাধায় বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান।
“এ সময় জুনিয়র আইনজীবীরা কয়েকটি বেঞ্চ এলোমেলো করে থাকতে পারে। তবে কারা করেছে তা আমার জানা নেই।”
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
সেখানে দেখা যায়, অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে কোতোয়ালি মডেল থানার জিআরও এসআই শম্ভু নথি উপস্থাপন করেন। এ সময় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনের নেতৃত্বে আইনজীবীরা আদালতে প্রবেশ করেন।
এ সময় সভাপতি লিংকন বিচারককে উদ্দেশ করে এজলাস ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেন। হৈ-হুল্লোড় করে এজলাসের বেঞ্চসহ আইনজীবীদের ডায়াস ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।
সন্ধ্যায় সিআইডির একটি দল আদালতে আসেন। তারা আদালত কক্ষ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ধরেননি।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিআইডির বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।