স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের নেতা গ্রেপ্তার, বরিশাল মেডিকেলের ‘শাটডাউন’ স্থগিত
সোমবার পৃথক কর্মসূচি থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছিল।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার নিয়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীর উপর হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এরপরই হাসপাতালের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত করেছে ইন্টার্ন, মিড-লেবেল চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার সাড়ে ১২টার দিকে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান।
তবে আটক হোসাইন আল সুহান স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের সদস্য নন দাবি করেছেন ওসি। পুলিশের দাবি, সুহান বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা।
কিন্তু স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান বলেন, “আজকে (মঙ্গলবার) আমাদের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। তাই আমরা নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ের নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিই। কিন্তু সেখানে পুলিশ অর্তকিত হামলা করে আমাদের কো -অর্ডিনেটর সুহান ভাইকে নিয়ে গেছে। আরও দুই তিনজনকে নিয়ে গেছে। কোথায় নিয়েছে আমরা জানি না।”
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের কোনো সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের এক ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠেছিল। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
সুহানকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী মামলার আসামি হিসাবে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান ওসি।
সোমবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনিকে একমাত্র নামধারী ও অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে হামলা, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাতসহ মারধর করে গুরুতর ও সাধারণ জখম এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত
এদিকে, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার এক আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত করেছে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন, মিড লেবেল চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার হাসপাতালের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানান সিনিয়র স্টোর অফিসার ও চিকিৎসক আবদুল মুনয়েম সাদ।
তিনি বলেন, “হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপর হামলা-হুমকি দেয়ার ঘটনায় শাডডাউন কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।
“কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পূর্বে দাবি মেনে নেওয়ায় সে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে হাসপাতালের সব চিকিৎসক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।”
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সারাদেশে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। দাবির সপক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশনও করছেন।
এর মধ্যেই রোববার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের এক চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আন্দোলনকারীরা। এছাড়া তারা হাসপাতাল লক্ষ্য করে ইটের নিক্ষেপ করলে আঘাতে কর্মচারীসহ দুইজন আহত হয়েছে।
পরে সোমবার পৃথক সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছিল।
এর মধ্যে মিড লেবেলের চিকিৎসকরা ৪৮ ঘণ্টার ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছিলেন।
আগের খবর
