Published : 29 Apr 2026, 01:51 PM
নোয়াখালীর আলোচিত স্কুলছাত্রী হত্যায় তার সাবেক গৃহশিক্ষককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পিপি) মো. সেলিম শাহী।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আব্দুর রহিম রনি (৩০) মামলাটির একমাত্র আসামি। তার উপস্থিতিতেই বিচারক এই রায় দেন।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল এ মামলায় রায় ঘোষার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ওইদিন এজলাসে বসেই রায়ের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন বিচারক।
পিপি মো. সেলিম শাহী বলেন, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালী পৌরসভার একটি বাসা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর গলা ও হাত, পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে প্রাইভেট শেষে ১২টার দিকে বাসায় ফিরে আসে স্কুলছাত্রী। পরে বাসায় সে একাই ছিল। সন্ধ্যায় তার মা ফিরে ঘরের মূল দরজায় তালা দেখতে পান।
তালা খুলে ভেতরে ঢুকে সামনের কক্ষের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। অন্য রুমের বিছানায় মেয়ের অর্ধনগ্ন, গলা ও দুই হাতের রগ কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
এ ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীর সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পরে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন রনি।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।
আলোচিত এ হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
এদিকে মামলাটি তদন্তের পর অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বিচার কাজ চলা কালে বাদী পক্ষের ৪১ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আসামি পক্ষের পাঁচজন সাফাই সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক।
পরে বুধবার দুপুরে আদালত অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যায় আব্দুর রহিম রনিকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক।
একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিপি সেলিম শাহী।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
এদিকে বাদী পক্ষের আইনজীবী মোল্লা মোহাম্মদ হাবিবুর রাছুল মামুন বলেন, জেলা শহরে দিনদুপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীকে হত্যার এ ঘটনায় আদালত যে রায় দিয়েছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মামলার বাদী ও স্কুল শিক্ষার্থীর মা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তার মেয়েকে হত্যায় এ মৃত্যুদণ্ডের রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।
আগের সংবাদ
নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল