Published : 09 Jun 2026, 12:24 AM
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের ফটকে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
রোববার দুপুরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ফটকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আইয়ূবী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন অটোরিকশায় করে প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার বিদ্যালয়ের যান। তিনি অটোরিকশা থেকে নামার সময় বিদ্যালয় ফটকের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন। কয়েকজন তাকে অটোরিকশার ভেতর থেকে টেনে বের করারও চেষ্টা করেন।
আশপাশের কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই অটোরিকশায় করেই সুজিৎ কর্মকার প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তিনি চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে যান।
বিদ্যালয়টিতে ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুজিৎ কর্মকার দায়িত্ব পান। দুই বছর আগে তার বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল।
তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন স্থানীয় একটি পক্ষকে মদদ দিয়ে তার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেন। পরে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়।
এসব কারণে তিনি ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যালয়ে যাননি এবং বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে ছিলেন। রোববার তিনি ইউএনও ও থানার ওসিকে জানিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন।
সুজিৎ কর্মকার বলেন, সুস্থ হওয়ার পর তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
তবে জামাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “কিছু অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দিয়েছেন। আমার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কোনো বিরোধ নেই। কেন তিনি আমাকে দায়ী করছেন, তা বুঝতে পারছি না।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন, “সুজিৎ কর্মকারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা ভাব দেখা গেছে। আমরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছি।”
ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, “প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে- এমন অভিযোগ পেয়েছি। তবে ওই শিক্ষক এখনো লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইউএনও ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, “স্থানীয় কিছু ঝামেলার কারণে প্রধান শিক্ষক প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসতে পারছিলেন না। তিনি বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে ছিলেন। গতকাল বিদ্যালয়ে আসার সময় বিদ্যালয়ের গেটে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে আমি সেখানে পুলিশ পাঠাই। তিনি এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি।”