Published : 31 Aug 2025, 10:11 PM
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-বাকৃবিতে অবরুদ্ধ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্ধারে অস্ত্রশস্ত্রসহ বহিরাগতদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যার পর উপাচার্যের বাসভবনের পাশ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ জনের মত বহিরাগতরা দেশি অস্ত্র নিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে তারা মিলনায়তনের তালা ভেঙে দেন। পরে দুপুরের পর থেকে সেখানে অবরুদ্ধ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বেরিয়ে যান।
বহিরাগত লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনার পর উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন বলে জানান ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।
তবে তাৎক্ষণিক আহত শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভেটেরিনারি অনুষদ এবং পশু পালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের প্রায় এক মাস ধরে ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’র দাবিতে আন্দোলন চলছে। দুই অনুষদের ডিগ্রিকে একীভূত করে একটি ডিগ্রি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে ভোটাভুটির পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
রোববার অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় দুপুর ১টার দিকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ভিসিসহ প্রায় ২০০ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে আটকে রেখে গেইটে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি সমাধানে ক্যাম্পাসে ছুটে যান ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন।

সন্ধ্যার পর উপাচার্যের বাসভবনের পাশ থেকে বহিরাগত দেশি অস্ত্র নিয়ে এসে অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উদ্ধারে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে তারা তালা ভেঙে তাদের বের করে আনেন। এ সময় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অনেকে আহত হন।
হামলায় আহত স্থানীয় দৈনিক ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আনিসুর রহমান ফারুক বলেন, “সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বুঝাচ্ছিলেন ঠিক তখনই বহিরাগত ২৫০ থেকে ৩০০ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়।
“পরে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বহিরাগতরা তালা ভেঙে দিলে শিক্ষকরা বেরিয়ে যান। এ সময় প্রশাসনের লোকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমিও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজন এসে আমাকে আঘাত করে। এতে জখম হই।”
আহত আরেক সংবাদকর্মী সালমান সাদিক শাওন বলেন, “হঠাৎ করে এমন হামলা হবে বুঝতে পারিনি। হামলাকারীরা আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে।”
ভেটেরিনারি অনুষদের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, “কিছু ছেলে পেলে এসে তালা ভেঙে দিলে আমরা বের হই। কিন্তু এটা কোনো সমাধান নয়। আমরা চাই বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহা হোক।”
বেশিরভাগ শিক্ষক সমন্বিত ডিগ্রির পক্ষে কিন্তু গুটিকয়েক শিক্ষকের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের এক পর্যায়ে দুপুর থেকে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে কিছু লোকজন শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
“ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের লক্ষে কাজ করছি।”