Published : 25 Feb 2026, 09:10 PM
ফরিদপুর শহরে ইজিবাইক চোরচক্রের একটি ‘কারখানার’ সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। যেখানে চুরি করা ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ এবং ইঞ্জিন-চ্যাসিস নম্বর পাল্টে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নতুন গাড়ি হিসেবে বিক্রি করা হত ভাষ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য দিয়েছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
ধারাবাহিক এ অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল মীর মালোত, মিলন খান, আশরাফ, শহীদ সিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। তাদের বাড়ি ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুর জেলায়।
গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চুরি ও চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচায় জড়িত জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত চক্র। চুরি করা ইজিবাইকের শনাক্ত এড়াতে তারা ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলত।”

চালকের অভিযোগে খুলল ‘নেটওয়ার্ক’
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের কোর্টপাড়া জামে মসজিদের সামনে তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা একটি ইজিবাইক উধাও হয়। ভুক্তভোগী চালকের করা মামলায় তদন্ত শুরু করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ।
পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ ও গোপন খবর পেয়ে প্রথমে আলাল ফকিরকে আটক করা হয়। আদালতে আলাল ফকিরকে দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর বেরিয়ে আসে পুরো চক্রের নাম-পরিচয়। এরপর একে একে গ্রেপ্তার করা হয় বাকি সদস্যদের।
পুলিশ জানায়, চক্রটি নির্জন এলাকা টার্গেট করে প্রথমে ইজিবাইক চুরি করে। পরে গোপন গ্যারেজে নিয়ে চ্যাসিস, বডি, গ্লাস, কেবিন আলাদা করা হয়। এরপর ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর ঘষে তুলে ফেলা হয়। সবশেষ ভুয়া সিলমোহরযুক্ত প্যাডে নতুন নম্বর ও খণ্ডিত অংশ জোড়া দিয়ে ‘রিফার্বিশড’ ইজিবাইক হিসেবে কম দামে বিক্রি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারদরের চেয়ে কম দামে গাড়ি বিক্রি করে লাভ তুলত চক্রটি। অস্বাভাবিক কম দাম দেখে কাগজপত্র যাচাই না করেই এসব গাড়ি কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই।
জেলা পুলিশ জানায়, গত কয়েক বছরে ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকদের ওপর হামলা-হত্যা, ছিনতাই ও চুরির অর্ধশতাধিক ঘটনা ঘটেছে; অনেকগুলোর রহস্য উদঘাটন হয়েছে, কিছু তদন্ত চলছে।
পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, চক্রটির আরও সদস্য থাকতে পারে। অভিযান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক না কেনার পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।