Published : 02 Mar 2026, 03:43 PM
বগুড়া শহরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতার প্রাণ গেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ জানান, মামলার পর আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
“ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোহনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।”
নিহত সাইফুল ইসলাম ওই এলাকার নওশেদ আলীর ছেলে এবং তিনি জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া শহর শাখার ওলামা বিভাগের রুকন ও জেলা ওলামা মাশায়েকের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
এর আগে বগুড়া শহরের মাহবুব নগরে রোববার সকালে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকালে নওশেদের মৃত্যু হয় বলে বগুড়া সদর থানার ওসি মনিরুল সলাম জানান।
তিনি বলেন, “নিহতের দুলাভাই মো. আলী আজম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানার মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারেরে করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন- মামলার ১ নম্বর আসামি ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (৩২) এবং ৩ নম্বর আসামি বেবী খাতুন (৫২)। তারা শহরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
সোমবার ভোরে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকা থেকে মামলার ৩ নম্বর আসামি বেবী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ বলছে, প্রতিপক্ষের লোকজনের ছুরিকাঘাতে সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা রোববার বিকালে নওশেদকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে সাইফুল ইসলাম মারা যান।
নিহতের ছেলে আহসান হাবিব বলেন, বাবা মসজিদের খতিব ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসাও করতেন। জমি-জমা নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল।
তার দাবি, “এই বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা বাবাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে।”
জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সাইফুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে বলে ওসি মুনিরুল ইসলামও জানিয়েছেন।
তিনি বলছেন, “এ ব্যাপারে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবেদুর রহমান সোহেল বলেন, “আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি।”