Published : 21 Oct 2025, 07:44 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী আনন্দ বাজারের বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন শহরের আনন্দ বাজার, টান বাজার, জগৎ বাজার, সড়ক বাজার, নিউ মার্কেট, চাউল বাজার ও সবজি বাজারের ব্যবসায়ীরা।
পরে একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ বাজার মাছ ও শুটকি মহলের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার জেলা শহরের শত বছরের বেশি পুরোনো বাঁশ বাজার। কয়েক বছর আগে বাঁশের বাজারটি শহরের মেড্ডায় স্থানান্তর করা হয়।
পরে শহরের যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দবাজার আশপাশের বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল গাড়িতে লোড-আনলোড করার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে।
বস্তুত এই জায়গাটি ব্যতীত ব্যবসায়ীদের ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে আনা মালামাল উঠানো-নামানোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও নেই।
খলিলুর রহমান আরও বলেন, আনন্দবাজারে প্রায় ২১ শতাংশ খাস জমি রয়েছে। সম্প্রতি সে জায়গাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৩ জন অপরিচিত ব্যক্তির নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বিঘ্ন তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, তাই তারা জনস্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন, বলেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

এ সময় আরও বক্তৃতা করেন, আনন্দ বাজার মাছ ও শুটকি মহলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুত্তাকিম, যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসনাত, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ, টানবাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী কমলালয়ের সত্বাধিকারী আশিষ পাল, সবজি ও চাল মহলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কালাম।
বন্দোবস্ত বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরে বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, “সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত বাজার শ্রেণির পেরিফেভূক্ত জায়গা হওয়ায় সরকারের রাজস্ব বাড়াতে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। হাট-বাজারের জায়গা ট্রাক রাখার জন্য বরাদ্দ দিতে পারি না।
“এছাড়া আমাদের ঝুলানো সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলায় ইউএনওকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি।”
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া বলেন, “খাস খতিয়ানের জায়গাটি ৩৩ জনের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। জায়গাটি নিয়ে জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ৩৩ জনের নাম প্রকাশ করছি না। একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”