Published : 31 Jan 2026, 02:39 PM
সৌন্দর্য জগতে বেশ কয়েক বছর থেকেই ‘ট্রেন্ডি’ চর্চায় চলছে ঘন ভ্রু। শুধুমাত্র ফ্যাশনের জন্যই নয়, চেহারায় আত্মবিশ্বাস আনতেও ঘন ভ্রু জনপ্রিয়।
২০০০ সালের শুরু ও পরে একটি লম্বা সময় পর্যন্ত পাতলা ভ্রুতেই নারীরা স্বাচ্ছন্দ্য পেতেন। তবে সময় পরিবর্তনে এখন স্বাভাবিক ও ঘন ভ্রুই বেশি আকর্ষণীয়।
তবে সবার জিনগত গঠনে ভ্রু ঘন হয় না। এছাড়া অতিরিক্ত তুলে ফেলা, বয়সজনিত পরিবর্তন কিংবা হরমোনজনিত কারণে ভ্রুর লোম কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ভ্রুর যত্নে নিয়মিততা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, “ভ্রু’র লোমও মাথার চুলের মতোই একটি স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। তাই সাথে সাথে ফল না পেয়ে অনেকেই মাঝপথে চেষ্টা বন্ধ করে দেন, যা ঠিক নয়। ভ্রুর লোমের গোড়া সুস্থ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঘন ভ্রু পাওয়া সম্ভব।”
বাহ্যিক সেরামের ব্যবহার ও তার কার্যকারিতা
সক্রিয়ভাবে ভ্রু ঘন করতে চাইলে বাহ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী সেরাম একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে পরিষ্কার ও শুকনা ভ্রু’তে নির্দিষ্ট সেরাম ব্যবহার করলে ভ্রুর লোমের ঘনত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
এসব সেরামে সাধারণত ভিটামিন উপাদান ও উদ্ভিজ্জ নির্যাস থাকে, যা লোমের গোড়াকে পুষ্টি জোগায়। নিয়মিত ব্যবহারে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভ্রু আগের তুলনায় পূর্ণ ও ঘন দেখায়।
ভ্রু মালিশ: ঘরে বসে সহজ যত্ন
প্রাকৃতিক ও খরচবিহীন উপায় চাইলে ভ্রু মালিশ করা কার্যকর।
শারমিন কচি ব্যাখ্যা করেন, “প্রতিটি লোমের গোড়ায় ক্ষুদ্র রক্তনালি থাকে। আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ভ্রুর ওপর মাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে, যা লোমের বৃদ্ধিতে সহায়ক।”
প্রতিদিন রাতে মাত্র আধা মিনিট সময় দিলেই এই অভ্যাস ভ্রুর স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যালোভেরা ব্যবহারে প্রাকৃতিক পুষ্টি
প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে অ্যালোভেরা ভ্রুর যত্নে বিশেষভাবে উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড ত্বক ও লোমের জন্য উপকারী।
অ্যালোভেরার একটি উপাদান কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা লোমের ফলিকল সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
তাজা অ্যালোভেরা ভ্রুর ওপর হালকা করে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে ভ্রুর ত্বক আর্দ্র থাকে এবং লোম ভাঙার প্রবণতাও কমে।
সাজসজ্জার মাধ্যমে ঘন ভ্রুর অনুভূতি
ভ্রু’র লোম পুরোপুরি ঘন না হলেও সঠিক সাজসজ্জার মাধ্যমে তা ঘন দেখানো সম্ভব।
শারমিন কচি বলেন, “সূক্ষ্ম রেখা আঁকার উপযোগী ভ্রু পেন্সিল পাতলা ভ্রুর জন্য ভালো। তবে রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভ্রুর স্বাভাবিক রংয়ের সঙ্গে মিল রাখা জরুরি। আঁকার সময় প্রতিটি রেখার মাঝে ত্বকের সামান্য অংশ দৃশ্যমান রাখলে ভ্রু স্বাভাবিক দেখায়।”
ভ্রু জেল ব্যবহারে ত্রিমাত্রিক প্রভাব
পেন্সিল ব্যবহারের পর ‘ভ্রু জেল’ লাগালে ভ্রু আরও ঘন দেখায়। আঁশযুক্ত জেল ভ্রুর লোমে লেগে লোমকে মোটা দেখাতে সাহায্য করে। দ্রুত সাজের প্রয়োজন হলে শুধু জেল ব্যবহার করলেও ভ্রু উঁচু ও পূর্ণ আকার দেখায়।
ক্ষতিকর উপাদান এড়িয়ে চলা
ভ্রু ঘন করার পথে, কিছু অভ্যাস ভ্রুর ক্ষতি করতে পারে। অনেক সময় ভ্রু জেলে শুষ্ককারী উপাদান থাকে, যা লোমকে দুর্বল করে আর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়।
একইভাবে মুখে ক্রিম লাগানোর সময় ভ্রুর ওপর অতিরিক্ত ক্রিম জমলে লোমের গোড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন- শারমিন কচি।
তাই ভ্রুর লোম একই সাথে পরিষ্কার ও অতিরিক্ত আর্দ্রতামুক্ত রাখা জরুরি।
অতিরিক্ত তোলা থেকে বিরত থাকা
ভ্রু তোলা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় লোম তুলে ফেলার প্রবণতা বাড়ায়।
এই রূপ-বিশারদের মতে, “ভ্রু ঘন করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল- কিছুদিন একে নিজের মতো বাড়তে দেওয়া। নিয়মিত তোলা, মোম বা সুতা ব্যবহারে লোমের বৃদ্ধি চক্র ব্যাহত হতে পারে।”
আরও পড়ুন