গাজায় আগ্রাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে কবিতাপাঠ

এ আয়োজন করেন উত্তর আমেরিকা-প্রবাসী বাংলাদেশি কবি-লেখকরা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Oct 2023, 02:48 AM
Updated : 24 Oct 2023, 02:48 AM

বিশ্বের যে কোন আগ্রাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবিদের প্রতিবাদী শব্দাবলি উচ্চারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। সব মানবিক বিপর্যয় রুখে সত্যের পক্ষে এগোতে হবে।

ফিলিস্তিনের গাজায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে রোববার সন্ধ্যায় কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন অভিমতই উচ্চারিত হয় কবি ও আলোচকদের মুখে।

উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কবি ও লেখকদের এ আয়োজনে স্মরণ করা হয় সদ্যপ্রয়াত কবি আসাদ চৌধুরী ও জীবনানন্দ দাশকে।

কামরুজ্জামান বাচ্চুর উপস্থাপনায় এতে অতিথি ছিলেন অভিনেতা আহমেদ শরীফ, মুক্তিযোদ্ধা মহসিন আলী, ফকির ইলিয়াস ও কাজী আতীক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মামুনুর রশীদ মামুন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘সাহিত্য একাডেমি’ নিউ ইয়র্কের পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, “একজন কবি কিংবা লেখকের সব লেখাই কিন্তু আমরা পড়ি না। পড়ার সুযোগও হয় না। কিছু লেখা আছে যা ওই লেখককে কালে কালান্তরে বাঁচিয়ে রাখে। কবি আসাদ চৌধুরী কিংবা কবি জীবনান্দ দাশ তাদের কালজয়ী কবিতার মাঝেই বেঁচে থাকবেন। একজন লেখককে পথ তৈরি করে যেতে হয়। মানুষকে এগিয়ে নিতে লেখকের দায়িত্ব অপরিসীম।”

অনুষ্ঠানে কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতা আবৃত্তি করেন আহমেদ শরীফ ও সেলিম ইব্রাহিম। ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশের কবিতা ‘পরিচয়পত্র’ আবৃত্তি করেন ফারহানা ইলিয়াস তুলি।

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন মহসিন আলী, মিয়া জাকির, সাইদুর রহমান, কাজী রবিউজ্জামান, শফিউল আজম, শিল্পী মেহেরুন আহমেদ ও হাকিকুল ইসলাম খোকন। কবিতাপাঠে অংশ নেন আবু তাহের চৌধুরী, সুধাংশু মণ্ডল ও মাহবুবুর রহমান। 

আলোচনা ও কবিতাপাঠ করেন কাজী আতীক। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে যে গণহত্যা চলছে এর প্রতিবাদ করা সবার দায়িত্ব। আমরা যদি খামোশ থাকি তাহলে সময়ের কাছে দায়ী থেকে যাবো।”

আসাদ চৌধুরীর ‘বারবারা বিডলারকে’ কবিতাটি নিয়ে আলোচনায় ফকির ইলিয়াস বলেন, “ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার একজন কিশোরী স্কুলছাত্রী ১৯৬৭ সালে একটি কবিতা লিখেন। একটি চার্চের ম্যাগাজিনে কবিতাটি ছাপা হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন কবিতা ও ম্যাগাজিনটি নিষিদ্ধ করে। বারবারার ওই কবিতাটি পড়ে ভিয়েতনামের বিখ্যাত কবি হুই কান ভিয়েতনামী ভাষায় আরেকটি কবিতা লেখেন। কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষ্যমতে কবি আসাদ চৌধুরীর ‘বারবারা বিডলারকে’ কবিতাটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা।”

এটি ওই সময় আবদুল গাফফার চৌধুরী সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র ‘জয়বাংলা’য় ছাপা হয়। ১৯৮৩ সালে আসাদ চৌধুরী তার ‘যে পারে পারুক’ কবিতাবইয়ে এটি সংকলিত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন মেহেরুন আহমেদ ও জয়গুন নেসা। এছাড়া কামরুজ্জামান বাচ্চুর সম্পাদনায় ‘অক্ষর’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।