কানাডায় বাংলাদেশিকে গাড়িচাপায় হত্যা, অভিযুক্ত চালকের আত্মসমর্পণ
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বাংলাদেশে রেখে কানাডায় প্রাণ হারান মাহাদি।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের নানাইমোতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহাদি রেদওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রায় এক বছর পর চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত চালক ওয়ায়েল হামাইদ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ‘বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে’ মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার কানাডার সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যাঙ্কুভার সান’-এ প্রকাশিত সংবাদে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে নানাইমোর আইল্যান্ড হাইওয়ে নর্থে হাঁটার সময় গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন ২৩ বছর বয়সি বাংলাদেশি অভিবাসী মাহাদি রেদওয়ান। দুর্ঘটনার পর তার লাশ মহাসড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে পাওয়া যায়।
মাহাদি ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর নিখোঁজ হন। এর আগে ২ নভেম্বর তাকে লংউড স্টেশন এলাকার একটি সুপারমার্কেট থেকে বের হতে দেখা গিয়েছিল। কোর্টনি যাওয়ার জন্য তার একটি গাড়িতে ওঠার কথা ছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেখানে না পৌঁছানোয় তাকে নিখোঁজ হিসেবে অভিযোগ জানানো হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর টার্নার রোড ও মোস্টার রোডের মধ্যবর্তী হাইওয়ের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় কানাডার ফৌজদারি আইনে ‘বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে’ মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে ওয়ায়েল হামাইদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সোমবার তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
পরে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আসছে ১০ নভেম্বর আদালতে তার হাজির হওয়ার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাহাদি মাত্র ছয় মাস আগে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর সময় বাংলাদেশে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ছিলেন। এরই মধ্যে তাদের একটি ছেলেসন্তানের জন্ম হয়েছে। মাহাদির নিজের পছন্দ করে রাখা নাম অনুসারে ছেলের নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ উমাইর।
আন্তর্জাতিক ক্রাউডফান্ডিং ওয়েবসাইট ‘গোফান্ডমি’তে মাহাদির পরিবারের জন্য তহবিল সংগ্রহের পেইজ খোলা হয়, ওই তহবিলে ৬০ হাজার কানাডীয় ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।
সেখানে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, “গভীর কৃতজ্ঞতা ও আবেগের সঙ্গে জানাচ্ছি, মাহাদির সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। সবাইকে স্বাগত জানাই তার ছেলে মোহাম্মদ উমাইরকে। এই নামটি মাহাদি নিজেই পছন্দ করেছিলেন।”
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওয়ায়েল হামাইদের বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রায় ৩০টি ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানো, গাড়ি চালানোর সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এবং স্টপ সাইন অমান্য করার মতো বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংঘটিত একটি ঘটনার সূত্রে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভ্যাঙ্কুভারের একটি আদালতে আরেকটি মামলার শুনানিতেও হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
