নিউ ইয়র্কে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক গ্রেপ্তার
আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ৭২ বছর বয়সি ফজলুল এইচ ইউসুফ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের কুইন্সে এক কিশোরী ও এক তরুণীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফজলুল এইচ ইউসুফ নামে এক বাংলাদেশি চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগকারীদের একজনের বয়স ১৫ বছর, অন্যজনের ২০ বছর।
গত ২০ অক্টোবর কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় ফজলুল ইউসুফের (৭২) চিকিৎসাকেন্দ্রে তাদের নিপীড়নের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসা দেওয়ার সময় রোগীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত দেন ফজলুল ইউসুফ। দুই রোগীকেই নিজের ক্লিনিকে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক রোগীর শরীরে হাত দেওয়ার সময় চিকিৎসক বলেন, “ইউ আর বিউটিফুল। হোয়াই ডোন্ট ইউ কাম ওয়ার্ক ফর মি?”
অভিযোগ পাওয়ার পর ২৭ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক পুলিশের বিশেষ ভিকটিম স্কোয়াড ফজলুর ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কুইন্সের ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, বিচারক ইন্দিরা দেবি খান তাকে ১০ হাজার ডলার নগদ বন্ড ও ৩০ হাজার ডলারের বিমা বন্ডে জামিন দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুই অভিযোগকারীর কাছে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ফজলুল ইউসুফের বিরুদ্ধে জোর করে শরীর স্পর্শ এবং এক কিশোরীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ৩০ অক্টোবর আদালতে হাজিরা দিয়েছেন এ চিকিৎসক। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৭ জানুয়ারি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে অন্য কেউ ভুক্তভোগী হয়ে থাকলে ২১২-২৬৭-৭২৭৩ অথবা ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানো যাবে।
বগুড়ার সন্তান ফজলুল এইচ ইউসুফ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকায় ২০১৩- ২০১৫ মেয়াদের নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের আরেক বাংলাদেশি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। চিকিৎসা লাইসেন্স খুইয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি জেল-জরিমানার মেয়াদ কমানোর প্রক্রিয়ায় আছেন।
