Published : 08 Apr 2026, 10:08 AM
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবে যাতায়াত সংকটে পড়েছেন ছুটিতে দেশে থাকা বহু বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী। বিমান চলাচল সীমিত হয়ে পড়া এবং টিকেটের বাড়তি মূল্যের কারণে নির্ধারিত সময়ে বাহরাইনে ফিরতে না পেরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাহরাইন রুটে ফ্লাইট স্বল্পতার কারণে টিকেট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যে অল্পসংখ্যক ফ্লাইট চালু রয়েছে, সেগুলোর ভাড়াও সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে নিম্নআয়ের শ্রমিকদের পক্ষে নতুন করে চড়া মূল্যে টিকেট কিনে কর্মস্থলে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ছুটিতে যাওয়ার সময় ফিরতি টিকেট নিশ্চিত করা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে যাচ্ছে। এতে টিকেটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুইদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন তার সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, “আমার ফেরার টিকেট ছিল চলতি মাসের ১২ তারিখের। এই নির্ধারিত সময়ে যেতে না পারলে নতুন টিকেট কেনা আমার মতো সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে সম্ভব নয়।”
বাহরাইনের একটি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের এ কর্মী দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
একই ধরনের সংকটের কথা জানান বাহরাইনের সিত্রা এলাকার একটি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবু হাসান। তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি ছুটিতে দেশে গিয়েছিলেন এবং এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইটে তার ফেরার নির্ধারিত তারিখ ছিল ৩ এপ্রিল।
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার ফিরতি টিকেটটি বাতিল হয়ে যায়। চট্টগ্রাম আনোয়ারায় পূর্ব ডুমুরিয়ার বাসিন্দা আবু হাসান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমানে টিকেটের যে অস্বাভাবিক মূল্য, তা দিয়ে নতুন করে টিকেট কেনা আমার পক্ষে অসম্ভব। সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি থাকবে কি না, তা নিয়ে আমি দুশ্চিন্তায় আছি।”
ফ্লাইট সংকটের পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ নিয়েও প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকের ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে, আবার অনেকের মেয়াদ পার হয়ে গেছে।
সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারানো এবং নিয়োগকর্তা কর্তৃক বিকল্প কর্মী নিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় দেশে আটকে থাকায় এবং আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী পরিবার নিয়ে আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের কাছে বিশেষ ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার জানান, প্রবাসীদের সহায়তায় দূতাবাস সজাগ রয়েছে।
তিনি বলেন, “যাদের ‘ফ্লেক্সিবল বা লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (এলএমআরএ) ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, তারা বাহরাইনে অবস্থানরত তাদের কোনো প্রতিনিধি বা আত্মীয়ের মাধ্যমে ভিসা নবায়নের আবেদন করতে পারবেন।”
রাষ্ট্রদূত আরও পরামর্শ দেন, “যারা কোম্পানি বা কন্ডিশনাল রেসিডেন্ট (সিআর) ভিসায় রয়েছেন, তারা যেন দ্রুত নিজ নিজ নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।”
এছাড়া যেকোনো আইনি জটিলতা বা সহায়তার জন্য দূতাবাসের শ্রম শাখায় প্রবাসীদের যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।