Published : 24 Jun 2026, 10:13 PM
সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর ৮৬তম জন্মবার্ষিকীতে তাকে নিয়ে গান ও প্রামাণ্যচিত্রের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশেষ সাক্ষাৎকারধর্মী প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘গল্প আছে এখানে’; নির্মাণ করেছেন শাইখ সিরাজ। প্রামাণ্যচিত্রটি আগামী ১ জুলাই বিকাল সোয়া ৫টায় চ্যানেল আইতে প্রচার করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে চ্যানেল আই জানিয়েছে, কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া এই শিল্পীর জীবন, কর্ম, সংগ্রাম ও সংগীতযাত্রার নানা অজানা অধ্যায় উঠে এসেছে এই প্রামাণ্যচিত্রে।
সাক্ষাৎকারধর্মী এই প্রামাণ্যচিত্রে সৈয়দ আব্দুল হাদী তার শৈশব, সংগীত জীবনের সূচনা, বাংলাদেশের সংগীতের বিবর্তন, সমকালীন শিল্পচর্চা এবং আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি তার প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছেন। একই সঙ্গে বলেছেন তার কালজয়ী গানগুলোর পেছনের গল্প।

প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে শাইখ সিরাজ বলেন, “তার গান আমাদের ব্যক্তিগত স্মৃতি, সামাজিক পরিবর্তন এবং জাতির আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “‘গল্প আছে এখানে’ এর মাধ্যমে আমরা শুধু তার সাফল্যের গল্প নয়, বরং একজন শিল্পীর চিন্তা, দর্শন, মূল্যবোধ এবং সময়কে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। নতুন প্রজন্মের জন্যও এটি হবে একজন জীবন্ত কিংবদন্তির অভিজ্ঞতা থেকে শেখার একটি মূল্যবান দলিল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে প্রতিভা, সাধনা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকা এই শিল্পীর জীবন ও কর্মের অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়গুলোই নতুন করে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্র।”
ষাটের দশকে 'কিছু বলো' গানটি বেতারে গেয়েছিলেন আব্দুল হাদী, সেই থেকে শুরু। দশকের পর দশক ধরে সংগীতে অবদান রাখা এই শিল্পী এখন আর গান করছেন না।
১৯৪০ সালের পয়লা জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া সৈয়দ হাদী শৈশব-যৌবন কাটিয়েছেন তার দাদার আগরতলার বাড়িতে। তার দাদা ছিলেন আগরতলা কোর্টের আইনজীবী।
সৈয়দ হাদী ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি ‘ইয়ে ভি এক কাহানি’ সিনেমায় কণ্ঠদিয়ে জনপ্রিয়তার সিঁড়ি খুঁজে পান। এরপর আর থেমে থাকেননি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র সম্মাননা। ২০০০ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।
বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে থাকা তার একক গানের অ্যালবামগুলো হচ্ছে 'একবার যদি কেউ', 'পৃথিবীর পান্থশালায়', 'একদিন চলে যাব', 'কথা বলব না', 'মেঘের পালকি', 'যখন ভাঙল মিলন মেলা', 'নিয়তি আমার', 'হাজার তারার প্রদীপ' ইত্যাদি।
তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে 'আছেন আমার মুক্তার', 'আমি তোমারি প্রেম ভিখারি', 'চোখ বুজিলেই দুনিয়া আন্ধার', 'চোখের নজর', 'চলে যায় যদি কেউ', 'একবার যদি কেউ ভালোবাসত', 'এমনও তো প্রেম হয়', 'যেও না সাথী', 'জন্ম থেকে জ্বলছি', 'কী করে বলিব', 'কেন তারে আমি ভালোবেসেছিলাম', 'সতি মায়ের সতি কন্যা', 'তোমাদের সুখের নীড়ে', 'কারো আপন হইতে', 'যে মাটির বুকে', 'কথা বলব না বলেছি', 'জানি তুমি চলে যাবে', 'সখী চল না জলসা ঘরে', 'সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তে তুমি'।