Published : 24 Jun 2026, 09:59 PM
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে ‘শক্তিশালী’ করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্ব ব্যাংক।
ডলারের বর্তমান বিনিময় হারের হিসাবে টাকার অঙ্কে এ অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির মঙ্গলবারের পর্ষদ সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেওয়ার তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দিয়েছে সংস্থাটি।
এতে বলা হয়, আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প–২ এর আওতায় বাংলাদেশকে এ ঋণ দেওয়া হবে। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত বীমার ব্যবস্থা জোরদার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতাকে শক্তিশালী করা।
প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামোও আধুনিকায়ন ও উন্নত করা হবে।
এ ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, কোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বশর্ত হল একটি শক্তিশালী ব্যাংক খাত। বাংলাদেশের ব্যাংক পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের ভিত্তি তৈরিতে প্রকল্পটি সহায়তা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ প্রকল্পের আওতায় আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়ানো হবে এবং আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা (ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি অ্যাসিস্ট্যান্স) কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের মত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

‘দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার কারণে’ বাংলাদেশের ব্যাংক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে’ বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।
বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২.৬ শতাংশ; যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
একইভাবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংক ব্যবস্থার ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত (ক্যাপিটাল–টু–রিস্ক–ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও) ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় প্রধান জ্যঁ পেম বলেন, “ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। কিন্তু আর্থিক খাতের মোট সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংক খাত ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।
“এ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ, ব্যবস্থা এবং সুরক্ষার কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।”