Published : 29 Apr 2026, 08:44 AM
পর্তুগালের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পর্যটন খাতে চলতি মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি দেশটির পর্যটন শিল্পে পড়তে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতি কেবল অর্থনীতিই নয়, বরং লিসবন ও আলগার্ভসহ বিভিন্ন শহরে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদেরও বিপাকে ফেলেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো বড় ট্রানজিট হাবগুলোতে ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা কাজ করছে।
ফলে উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া থেকে আসা পর্যটকদের বুকিং উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা পর্যটকরাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন।
পর্তুগালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রেস্তোরাঁ, স্যুভেনির শপ, আবাসন (এয়ারবিএনবি) এবং ট্রান্সফার সার্ভিসের ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পর্যটন মৌসুমের ওপর ভিত্তি করেই তাদের সারা বছরের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন।
লিসবনে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, “এই সময়টায় আমাদের রেস্তোরাঁগুলোতে পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু এবার সেই তুলনায় অনেক কম মানুষ আসছে। আর যারা আসছেন, তারাও অতিরিক্ত খরচ করতে চাইছেন না। এতে আমাদের আয় কমে গেছে।”
অন্যদিকে, পর্তুগালের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র আলগার্ভ অঞ্চলে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা প্রবাসী উদ্যোক্তা কামরুল হাসান বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের আগাম বুকিং প্রায় ২০-৩০ শতাংশ কম। অনেকগুলো কক্ষ খালি পড়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা শেষ মুহূর্তে ট্রিপ বাতিল করছেন। পরিস্থিতি এমন থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।”
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) তথ্যমতে, বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ট্রাফিকের ১৪ শতাংশ পরিচালিত হয় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিমান ভাড়ায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
এর ফলে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী যারা বাংলাদেশে যাতায়াত করতে চাচ্ছেন বা পরিবার নিতে চাচ্ছেন, তারাও বাড়তি ভাড়ার চাপে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পর্যটন খাত থেকে পর্তুগালের জিডিপির বড় একটি অংশ আসে। এই খাতে মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থানের ওপরও।
এ অবস্থায় পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করতে প্রণোদনা ও প্রচারণা বাড়ানোর কথা ভাবছে পর্তুগাল সরকার। লিসবনের প্রবাসী ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে এবং ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হলে পর্যটকরা আবারও পর্তুগালমুখী হবেন।
তবে মৌসুমের শুরুতে যে ধাক্কা লেগেছে, তা কাটিয়ে উঠতে বছরজুড়েই লড়াই করতে হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশি প্রবাসী উদ্যোক্তারা।