১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রিসে অবৈধ অভিবাসনে ‘উসকানি’, বাংলাদেশির ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

তাকে অবৈধ অভিবাসীদের ‘দালাল’ হিসেবে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রিসে অবৈধ অভিবাসনে ‘উসকানি’, বাংলাদেশির ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
গ্রিস প্রবাসী মো. হাসান। ছবিটি তার করা ভিডিও থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিডিনিউজ২৪

মতিউর রহমান মুন্না, গ্রিস থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jun 2026, 02:23 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:29 PM

গ্রিসের নাফপ্লিও অঞ্চলে কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের অবস্থান ও কর্মসংস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এক বাংলাদেশি যুবকের ভিডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

সোমবার গ্রিসের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ব্যাংকিং নিউজ’-এ এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নজরে আসে।

ওই সংবাদপত্রটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে মো. হাসান নামের এক বাংলাদেশি যুবককে রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে নাফপ্লিও এলাকায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমরা গ্রিসের নাফপ্লিওতে কাজের জন্য আছি, যাদের কাগজপত্র নেই তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। ৫০ বছর এই জায়গাগুলোতে থাকলেও পুলিশ আসবে না।”

প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে দাবি করা হয়, উক্ত ব্যক্তি মূলত স্থানীয় কৃষি ও আধা-শহুরে অঞ্চলে নবাগত অনিয়মিত অভিবাসীদের ‘উসকানি’ দিচ্ছেন, তাদের ‘দালাল বা মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করছেন। প্রশাসনকে এড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিবাসীদের এভাবে সংগঠিত করার প্রক্রিয়াটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে এসেছে বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিসের গ্রামীণ অঞ্চলের কৃষিখাতে প্রশাসনিক তদারকি কম থাকার সুযোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন বৃদ্ধির যে প্রবণতা, এই ঘটনাটিকে তারই অংশ হিসেবে দেখছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমটি।

ভিডিওটি গ্রিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর গ্রিসে বসবাসরত সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীদের অভিযোগ, “গত দুই-তিন বছরে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশ করা কিছু টিকটকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার করছেন।” 

কয়েকজন ব্যক্তির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের’ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের কাছে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশি কমিউনিটি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সংবাদে বলা হয়, এ ধরনের প্রচারণার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করলে, সেখানে বৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশিরাও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন।