Published : 17 Sep 2025, 02:04 PM
বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কুয়েত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই) এবং বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার কুয়েত সিটির চেম্বারের আল বুম হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৬ সালে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ও কেসিসিআই-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকল অব কোঅপারেশন–এর পর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই এবং অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও তৈরি পোশাক, ওষুধ শিল্প, কৃষিপণ্য ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অন্যদিকে, কেসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কুয়েতের ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ অনুসন্ধান এবং টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। আলোচনার শুরুতে কেসিসিআই-এর সহকারী মহাপরিচালক ফিরাত এম. আল-ওদা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান এবং দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস দেন।
কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, “এটি শুধু ২০১৬ সালের প্রটোকলের ধারাবাহিকতা নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায়।”
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, তরুণ ও কর্মঠ জনসংখ্যা এবং পোশাক, ওষুধ শিল্প, তথ্য-প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি কুয়েতি বিনিয়োগকারীদের এসব খাতে সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান দেশের বাণিজ্য পরিবেশ ও নীতি সংস্কারের অগ্রগতির কথা বলেন।
তিনি বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ জনশক্তি এবং জনসংখ্যার সুবিধা তুলে ধরে জানান, সরকার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করেছে। তিনি কুয়েতি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের শিল্প প্রতিনিধিরা নিজ নিজ খাতের সম্ভাবনা উপস্থাপন করে বিনিয়োগ প্রস্তাব দেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সুবিধাগুলো পরিদর্শনের জন্য কুয়েতি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানানো হয়।
কুয়েতি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ থেকে আমদানি বাড়ানো এবং আউটসোর্সিং সহযোগিতার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা জানান, বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকটি পারস্পরিক সহযোগিতার ইতিবাচক বার্তা দিয়ে শেষ হয়। উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হন।