Published : 01 Dec 2025, 11:33 PM
চীনের চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্সে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবম আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও খাদ্যসংস্কৃতি তুলে ধরে অংশ নেয় সেখানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছিয়াও গার্ডেনের উত্তর অঞ্চলের রাইজিং স্কয়ারে আয়োজিত উৎসবটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউয়ান হংলিন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন মরোক্কোর শিক্ষার্থী রেডা বেহজাদে এবং চীনা শিক্ষার্থী ফুচিয়াছি।
উৎসবে বাংলাদেশের স্টলটি সাজানো হয় লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, দোয়েল, রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ দেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের ছবি দিয়ে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয় বিরিয়ানি, পিঠা, সেমাই, ফিরনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ছোলা ও চিকেন কারিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার।

এছাড়া বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক, কারুশিল্প, খেলাধুলার উপস্থাপনা ও বিশেষ রান্নার মাধ্যমে নিজ নিজ সংস্কৃতি প্রদর্শন করেন। নানা দেশের সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও জীবনধারার সমন্বয়ে উৎসবটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে এক আন্তঃসাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার মঞ্চ।
বাংলাদেশি স্টলের তত্ত্বাবধানে ছিলেন পিএইচডি গবেষক গোলাম শাহরিয়া ও মো. সৈকত হোসেন। মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম, সেলিম পারভেজ, মো. সফিকুল ইসলাম, শাকিল খান, ইমতিয়াজ আহমেদ জনি এবং অন্যান্য শিক্ষার্থী এতে সহযোগিতা করেন।
গোলাম শাহরিয়া জানান, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।

সেলিম পারভেজ বলেন, “বাংলাদেশের স্টলটি ঐতিহ্যবাহী খাবার ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের প্রদর্শনের জন্য দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং পুরো উৎসবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে, যা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য গর্বের।”
বাংলাদেশ, চীন, মরোক্কো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া, ঘানা, মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ২৩টি দেশের শিক্ষার্থীরা এবারের উৎসবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এক হাজারের বেশি চীনা ও বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী।