Published : 14 Apr 2026, 02:09 AM
দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে নিজ দেশে ফেরার আকুতি ছিল মনে। সেই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট (ভ্রমণ অনুমতি) সংগ্রহ করতে স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন দূতাবাসে।
কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে দেশে ফেরার সেই অনুমতিপত্র আর হাতে নেওয়া হলো না লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী অরুণের। তার আগে হাই কমিশন প্রাঙ্গণেই অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের কনস্যুলার সেবা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রবাসী অরুণ (৫০) লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার চররোহিতা গ্রামের সোলেমান হায়দারের ছেলে।
বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওইদিন সকালে স্ত্রী মোসাম্মাৎ শাহানাজ শরীফসহ ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহের জন্য হাই কমিশনে উপস্থিত হন অরুণ। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মানবিক বিবেচনায় হাই কমিশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তার ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করার প্রক্রিয়া শুরু করে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, “তবে দুপুরের দিকে অরুণ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলেও চিকিৎসাকর্মীরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, অরুণ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি একবার মাইল্ড স্ট্রোক করেছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি দেশে ফেরার শেষ চেষ্টাটুকু করতে দূতাবাসে এসেছিলেন।”
হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই মালয়েশিয়ান পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত কোনো নাগরিকের কাছে বৈধ পাসপোর্ট না থাকলে কিংবা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নিজ দেশে ফেরার জন্য দূতাবাস থেকে এই ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করতে হয়।
এটি মূলত একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) যাত্রার কাগুজে অনুমতি, এটি ব্যবহার করে কেবল নিজ দেশে ফিরে আসা সম্ভব। সাধারণত যারা প্রবাসে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্যই এই বিশেষ পারমিট ইস্যু করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অরুণের লাশ দেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।