রোমানিয়ার পলিটেকনিকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন

“প্রবাসীদের সন্তান যারা বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাদের মাতৃভাষা চর্চার ক্ষেত্রে দূতাবাস সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করবে,” বলেন রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Feb 2024, 11:42 AM
Updated : 22 Feb 2024, 11:42 AM

রোমানিয়া পলিটেকনিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে বুখারেস্টে বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে পলিটেকনিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই বিশেষ আয়োজনে সহযোগী হিসাবে ছিল রোমানিয়ান কালচারাল ইনস্টিটিউট।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পলিটেকনিকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত শহীদ মিনারে বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় নিবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিটেকনিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হোরিয়া ইউভু।

প্রধান অতিথি ছিলেন রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বিজ্ঞান অনুবিভাগের প্রধান আন্দ্রে লুকা।

কীভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের রোমানিয়ান ভাষা শেখানো হচ্ছে, তা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন রোমেনিয়ান কালচারাল ইনস্টিটিউটের ভাষা বিভাগের প্রধান রোকসানা প্রেদা।

রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রবাসীদের সন্তান যারা বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাদের মাতৃভাষা চর্চার ক্ষেত্রে দূতাবাস সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।”

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ভাষা যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য প্রাথমিক স্তরে দেশে প্রচলিত সকল ভাষায় পাঠপুস্তক বিনামূল্যে প্রকাশ ও বিতরণে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে একটি বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী করেন বিশিষ্ট কবি ও চিত্রকর আনদা পেত্রার্ক। অনুষ্ঠানের তৃতীয় ভাগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা একটি নাটিকার মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের পটভূমি চিত্রায়ন করেন। নাটিকাটির রচনা ও নির্দেশনা দেন দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব শেখ কৌশিক ইকবাল।

বাংলার পাশাপাশি রোমানিয়ান, রুয়ান্ডান, শ্রীলঙ্কান এবং সংখ্যালঘু তাতার জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন আয়োজন পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বুখারেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতিমা-তুজ-জহরা জুয়েনা। প্রায় ৫০ জন বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।