০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লন্ডনে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা, শেষ বিদায় জানালেন প্রবাসী সাংবাদিকরা

যুক্তরাজ্য থেকে শনিবার দেশে পৌঁছাবে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 10:30 PM

Updated : 08 Oct 2026, 11:13 PM

বাংলাদেশের সংবাদ সেবাকে ডিজিটাল দুনিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার পুরোধা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রতি লন্ডনে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন তার সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর নামাজে জানাজা হয়।

এর আগে শুভানুধ্যায়ীদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তার কফিন রাখা হয় মসজিদ প্রাঙ্গণে।

২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

তার সেই সময়ের সহকর্মী মোয়াজ্জেম হোসেন, শাকিল আনোয়ার, আতিকুর সামাদ, মাসুদ হাসান খান, উদয় শংকর দাসসহ যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকরা এসেছিলেন শেষ শ্রদ্ধ জানাতে।

ব্রিটিনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পরিবারের কয়েকজন সদস্যও জানাজায় অংশ নেন। জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন ব্রিকলেইন জামে মসজিদের ইমাম নজরুল ইসলাম।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছেলে, বাংলাদেশ নিউজ টোয়েন্টিফোর আওয়ার্স লিমিটেডের পরিচালক রাদ খালিদী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে আব্বার কিছু আদর্শ ছিল, যেগুলোর সঙ্গে তিনি কখনও আপস করতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন সাংবাদিকতা হওয়া উচিত সৎ, নির্ভীক এবং স্বাধীন। তার কাছে সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা ছিল না, এটা ছিল দায়িত্ব এবং প্যাশনের জায়গা।

“এই দায়িত্ব পালনের মাঝে তাকে জীবনে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এখানে উপস্থিত অনেকেই সেই অস্থির এবং কঠিন সময়গুলোতে তার পাশে ছিলেন। আমাদের পরিবার আপনাদের সেই ভালোবাসা, সাহস এবং সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।”

রাদ বলেন, “আব্বার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তার সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, তার সকল ভালো কাজ কবুল করে নেন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের লন্ডন প্রতিনিধি সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, “আমি শোক কাটিয়ে উঠতে পারছি না। তৌফিক ভাইয়ের সাথে আমার যে সম্পর্ক, আমি লন্ডনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধিত্ব করি। কিন্তু আমাদের সম্পর্কটা এর চেয়েও বেশি বন্ধুত্বের।”

তিনি বলেন, “তৌফিক ভাই ছিলেন অমায়িক মানুষ। বাংলাদেশের যারা অনলাইন সাংবাদিকতা করেন, আমি বলব তাদের গুরু এবং পায়োনিয়ার তৌফিক ভাই।”

প্রবাসী সাংবাদিক নবাব উদ্দিন বলেন, “তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশি সাংবাদিকতার নক্ষত্র। আমরা একজন সাহসী, সৎ সাংবাদিককে হারালাম।

“তিনি বাংলাদেশে যে বিপ্লব ঘটিয়েছেন… তার পথ ধরে পরে অনেকেই অনলাইন সাংবাদিকতায় এসেছেন, অনেক পোর্টাল তৈরি হয়েছে এবং তিনি অনেক সাংবাদিক তৈরি করেছেন বাংলাদেশে।”

ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র পারভেজ আহমেদ বলেন, “আমি উনার কাছে গ্রেটফুল, আমাদের সমস্ত কমিউনিটি উনার কাছে গ্রেটফুল। আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতবাসী করে এবং উনার পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা থাকল, উনারা যেন ভালো থাকেন।”

লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী বলেন, “খলিদী ভাই তার কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন।”

ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাদ খালিদী জানান, যুক্তরাজ্য থেকে শনিবার দেশে পৌঁছাবে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ।

সেদিন দুপুরে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীরা তাকে শেষ বিদায় জানাবেন। পরে বিকালে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হবেন সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।