হামলা-গ্রেপ্তারে আন্দোলন থামবে না: ফখরুল

রোববার ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Sept 2022, 12:14 PM
Updated : 16 Sept 2022, 12:14 PM

বিএনপির আন্দোলন ‘হামলা-গ্রেপ্তার করে’ দমানো ‍যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগের দিন রাজধানীর পল্লবীতে বিএনপির সমাবেশের আগে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে শুক্রবার তিনি এ মন্তব্য করেন।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, “গতকাল পল্লবী জোনে পুলিশের অনুমতি নিয়ে সমাবেশের জন্য যখন মঞ্চ তৈরি করছিলেন এবং মাইক লাগাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে মারাত্মক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আক্রমণ করে- এটা আপনাদের মিডিয়াতে উঠে এসেছে। এই আক্রমণের ফলে আমাদের প্রায় ৭৫ জন আহত হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে ৮ জন।

“আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, এভাবে সন্ত্রাসী হামলা করে, এভাবে আহত করে, জখম করে, হত্যা করে, গ্রেপ্তার করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে কখনই আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না, বিএনপিকে রাজপথ থেকে সরানো যাবে না।”

জ্বালানি তেল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে দলীয় কর্মী নিহতের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পল্লবীতে সমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি। আওয়ামী লীগ একই সময়ে সমাবেশ ডাকলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সংঘর্ষ বাঁধে।

ওই ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “পল্লবী জোনে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিলো ডি ব্লকের ঈদগাহ মাঠে। পুলিশ আপত্তি করার পরে আমাদের নেতৃবৃন্দ এটাকে পরিবর্তনে আরও দুইটি জায়গার কথা বলেছিলেন- পল্লবী পুরাতন থানা সামনে অথবা পল্লবী কাঁচা বাজারের সামনে মুকুল ফৌজ মাঠে।

“শেষ পর্য়ন্ত পুলিশ কর্তৃপক্ষ মুকুল ফৌজ মাঠে দুপুর ১টায় এই সমাবেশ করার অনুমতি প্রদান করে। যখন আমাদের কর্মী ভাইয়েরা মঞ্চ তৈরি করছিলেন ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়।”

ফখরুল বলেন, “সবচাইতে দুঃখজনক, সবচাইতে ভয়াবহ কাণ্ড হচ্ছে, গতকাল আক্রমণকারীদের প্রতিহত করার জন্য আমাদের নেতা-কর্মীরা যখন দাঁড়িয়ে ছিল, তখন আমাদের নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস ও শেষে বন্দুক দিয়ে গুলিবর্ষণ করে।”

পুলিশের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা বার বার বলে আসছি যে, পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত রক্ষা করা, পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত নিরপেক্ষ থাকা। কিন্তু পুলিশ পুরোপুরিভাবে এই হামলাকারীদের তথা আওয়ামী লীগের ও সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে গণতন্ত্রকামী যে আন্দোলন সেই আন্দোলনকে তারা নস্যাত করার জন্য কাজ করছে।

“আমরা মনে করি, পুরোপুরিভাবে উসকানি দিয়ে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট করা, বিরোধী দলকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা এই কাজগুলো করছে।”

এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন থেকে কর্মসূচিও ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ সকল মহানগর, জেলা-উপজেলায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে।

রাজধানীর নয়া পল্টনে সেদিন বিকাল ৩টায় মহানগর বিএনপি উত্তর-দক্ষিণ কমিটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন যে, প্রতিদিন আওয়ামী লীগের নেতারা এটা বলতে চান যে, বিএনপি এই সন্ত্রাসী হামলা করছে। আপনারাই দেখেছেন খুব ভালো করে যে, পুরো সন্ত্রাসটা করছে তারা।

“আওয়ামী লীগ একটি গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী শক্তি, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের যে অধিকার সেই অধিকারকে হরণকারী শক্তি। আওয়ামী লীগ অতীতেও একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলো এখনও তারা একই উদ্দেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”

তিনি বলেন, “আজকে নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ যে কাজটি করতে চাচ্ছে, তা হচ্ছে যেন এখানে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ তৈরি না হয়, জনগণের যে দাবি, একটি নিরপেক্ষ সরকারের দাবি, যে দাবিতে জনগণ আন্দোলন করছে সেই নিরপেক্ষ সরকার এখানে যাতে কিছুতে করা না যায় এবং তাদের যে শাসন, তাদের যে একদলীয় শাসন সেই ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য তারা আবারও একটা নির্বাচন করতে চায়, যে নির্বাচনে কোনো বিরোধী দল থাকবে না।”

মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, “আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী গতকাল আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ওপরে আক্রমণ করেছে। এই আক্রমণ করে কোনো লাভ হবে না।

“ঢাকায় আমাদের যে কর্মসূচি ২৮ তারিখ পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে, সেই কর্মসূচি চলবে। যে কেনো প্রতিকূলতার মধ্যে এই কর্মসূচি ইনশাল্লাহ অব্যাহত থাকবে।”

দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, “আমি এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানাই। সরকারকে বলছি, এই হামলার ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

“আমাদের একটাই কথা, মাঠে আমরা এখনও নামি নাই, নামছি। মাঠ থেকে গুলি করে মৃত্যু হলেও আমাদেরকে ওঠাতে পারবে না। সরকারকে চিন্তা করতে হবে তারা লাশ চায় না অন্য কিছু চায়।”

অন্যদের মধ্যে বিএনপির কামরুজ্জামান রতন, নাজিম উদ্দিন আলম, মহানগর উত্তরের আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, যু্ব দলের শফিকুল ইসলাম মিল্টন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক