নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘হাস্যকর’: ফখরুল

সরকার পতনের দাবিতে নিজেই স্লোগান ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 02:47 PM
Updated : 20 Sept 2022, 02:47 PM

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিবিসিকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক সফরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, শুধু আওয়ামী লীগের সময়ই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।

তার প্রতিক্রিয়ার মঙ্গলবার ঢাকার খিলগাঁওয়ে দলের এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনার এই কথা শুনে ঘোড়াও হাসবে। দেশের প্রতিটি মানুষ জানে, আমাদের আবদুস সালামের (বিএনপি নেতা) ভাষায়, ‘সবচেয়ে ভুয়া এই কথা’।”

সরকারের পদত্যাগের দাবি পুনরায় জানিয়ে তিনি বলেন, “পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে সকলের গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন করতে হবে। নতুন পার্লামেন্ট হওয়ার পর সরকার গঠন হবে।”

সব রাজনৈতিক দল ও মানুষকে এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। সমাবেশে তিনি নিজেই স্লোগান ধরেন- “দাবি এক দফা এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ”; “ফয়সালা হবে কোন পথে, রাজপথে রাজপথে”; “টেক ব্যাক বাংলাদেশ”।

আওয়ামী লীগ ‘জোর করে’ ক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, “আজকে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করছে; লক্ষ লক্ষ টাকা পাচার করছে, বিদেশে ঘরবাড়ি তৈরি করছে। আর আমাদের মানুষদের তারা হত্যা করছে।”

সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “সেলিমা রহমানকে (স্থায়ী কমিটির সদস্য) আঘাত করে, বরকতউল্লাহ বুলুকে (দলের ভাইস চেয়ারম্যান) হত্যার জন্য আঘাত করে, তাবিথ আউয়ালকে (নির্বাহী কমিটির সদস্য) হত্যার জন্য আঘাত করে, ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধানকে হত্যা করে এই দেশের আন্দোলনকে দমন করে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। আজকেও তারা জেগে উঠছে।”

সভা-সমাবেশে প্রশাসন অনুমতি দিতে গড়িমসি করায় ক্ষোভ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “এই দেশ কারও বাবার রাজত্ব নয়। এই দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই সরকারই শেষ সরকার নয়। এরপরও সরকার কিন্তু থাকবে। আপনাদের ছবিও প্রিন্ট করা আছে, ভিডিও করা আছে, রেকর্ড করা আছে।”

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, “ওরা আমাদের নেতা-কর্মীকে পাখির মতো গুলি করে মারবে। আরে তোমরা আমাদের গুলি করে মারবা, আর আমরা ভেরেন্ডা বাজাবো নাকি। এত সোজা না।

“আমরাও গর্জে উঠবো, আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক, আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সৈনিক, আমরা তারেক রহমানের সৈনিক। আমাদের প্রত্যেকের কাছে আছে ধানের শীষ। এই ধানের শীষ দিয়ে আমরা লড়াই করব। এই লড়াই হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ লড়াই। হয় বাঁচব, না হয় মরব।” 

খিলগাঁও জোড় পুকুর মাঠের সামনে বিএনপির মহানগর জোন-২ খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানার যৌথ উদ্যোগে জ্বালানি তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊধর্বগতি এবং ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধান হত্যা এবং পল্লবীসহ সারাদেশে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়।

খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে অংশ নেন।

শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য নেতা-কর্মীদের অভিনন্দন জানান মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্মআহ্বায়ক ইউনুস মৃধার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, ইশরাক হোসেন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, মোশাররফ হোসেন খোকন, লিটন মাহমুদ, যুব দলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসকে জিলানী, রাজীব আহসান, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদারসহ মহানগরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক