১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে: কাদের

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “আশঙ্কা আশঙ্কার জায়গায়। আশঙ্কার কাছে আশা কখনই পরাজিত হবে না। আশা বেঁচে থাকবে।”

ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে: কাদের

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jan 2024, 05:41 PM

Updated : 03 Jan 2024, 05:41 PM

নির্বাচন ঘিরে ‘কিছু আশঙ্কা’ থাকলেও ৭ জানুয়ারিতে ভোট দিতে দেশের মানুষ ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোটার উপস্থিতিও সন্তোষজনক হবে।

তিনি বলেন, “জনগণ প্রস্তুত। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে আকস্মিক যে জনসভা ফরিদপুরে করেছেন যত নারী সেখানে ছিল, এ দৃশ্যপট দেখে বোঝা যায়।

“বরিশালে যে দৃশ্য দেখেছি, সিলেটে দেখেছি, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে, সে আশায় আমরা করছি।”

ভোটের চার দিন আগে বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন কাদের।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আশঙ্কা আশঙ্কার জায়গায়। আশঙ্কার কাছে আশা কখনই পরাজিত হবে না। আশা বেঁচে থাকবে।”

‘ভোট বর্জনের আহ্বান’ জানিয়ে বিএনপির লিফলেট বিতরণ করা নিয়ে কটাক্ষ করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে লিফলেট বিতরণ করছে। তাদের নেতিবাচক কর্মসূচি, তাদের নাশকতা কর্মসূচি জনগণ অযোগ্য করেছে। তারা হরতাল অবরোধ দিলেও যানজট হচ্ছে, দূরপাল্লার যানবাহনও চলাচল করছে।”

৪ তারিখ পর্যন্ত তারা লিফলেট বিতরণ শেষে বিএনপির ভূমিকাটা কী হবে, সে দিকে লক্ষ্য রাখার কথাও বলেন আওয়ামী লীগ নেতা।

নির্বাচনে ৭০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে এক প্রশ্নে কাদের বলেন, “আমি সেটা বলিনি, আপনি ভুল। আমি যেটা বলেছি, ‘আইআরআই’ তাদের এক সমীক্ষায় বলেছে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ ভোটার শেখ হাসিনাকে ‘এপ্রুভাল রেটিং’ দিয়েছে। এর মানে এই নয় যে ৭০ শতাংশ লোক ভোট দেবে। একথা আমি বলিনি। আমি বলেছি, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে।”

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে- এই আশ্বাস দিয়ে নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন কাদের।

তিনি বলেন, “ইসি তার স্বাধীন কর্তৃত্বপুর্ণ যে ভূমিকা, ক্রমান্বয়ে তারা তা প্রয়োগ করতে পারছে। আচরণবিধি যেখানেই লঙ্ঘন হয়েছে যেখানেই তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

“নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে যত পালন করতে পারবে, ততই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত হবে।”

নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে নির্বাচন কমিশনাররা যে আশঙ্কা করছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা তাদের অভিমত ব্যক্ত করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের চিন্তাভাবনার মিল না থাকলেও আমরা কিছু বলব না। আমাদের সঙ্গে যদি অমিলও হয় আমরা কিছু বলব না।”

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জাতীয় প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন- এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেতাদের কাছ থেকে পাননি বলেও জানান কাদের।

তিনি বলেন, “নির্বাচনে একেবারে সীমান্তে, এখন আর এসব দাবি করার সুযোগ নেই।”

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাজা নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে ড. ইউনূসের দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা বাংলাদেশের মানবাধিকার বিপর্যস্ত হবার প্রতীক; কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা খর্ব করে ভিন্নমতালম্বীদের দমন করছে, সমালোচকদের দমন করছে।

“অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে কর্মরত আছেন তারেক রহমানের আত্মীয় আইরিন খান, যিনি এক সময় ডেইলি স্টারে কাজ করেছেন। তাদের মন্তব্যটা কেমন হবে, আমরা আগেও লক্ষ্য করেছি। আমাদের দেশে শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি মামলায় আমাদের স্বাধীন আদালত যে রায় দিয়েছেন সেটা নিয়ে তাদের এত মাথাব্যথা কেন?”

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নিশ্চুপ দাবি করে কাদের বলেন, “গাজায় গণহত্যা নিয়ে তাদের কী ভূমিকা সে আমরা জানতে চাই। অবলা নারী, অবুঝ শিশু, ৯৩ জন সাংবাদিকও সেখানে হত্যা করেছে, সেটা আপনারা জানেন। সাংবাদিকদের ব্যাপারেও আমেরিকা কিছু বলেছে? একটি মামলায় শ্রমিক অধিকারের যে রায়, সে রায়কে কেন কটাক্ষ করছেন?”

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খানও উপস্থিত ছিলেন।