জাসদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ জন হেফাজতে: পুলিশ
“তারা কেন জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য আছে, কী কর্ম তারা এখানে করেছেন, সেগুলো যাচাই হচ্ছে,” বলেন পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ।
ঢাকার গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান শেষে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেছেন, “আমি নির্দিষ্ট সংখ্যাটা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না, তবে সংখ্যাটা ২৮০ থেকে ৩০০ জনের কাছাকাছি হবে।”
শনিবার দুপুর ৩টায় দলটির কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরপর একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়েছেন তথ্যে এমন অভিযান চালানোর কথা বলে পুলিশ।
উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, “আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন।
“তো এ সংবাদ পেয়ে আমাদের পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো নিয়েছে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা পুলিশকে সহায়তা করেছে।”
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “তারা আসলে কী উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী কী তথ্য আছে এবং কী কী কর্ম তারা এখানে করেছেন, সেগুলো যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে।
“ইতোমধ্যে তারা এখানে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে মর্মে আমাদের কাছে কিছু তথ্য আছে।”
জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, তাদের ‘নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পুরো ঘটনা যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে’ তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তদন্তের সুবিধার্থে দরকার পড়লে তাদেরকে আশপাশের থানায় নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
উপকমিশনার হারুন বলেন, “যাচাই বাছাই করে যার যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের নামে মামলা হবে বা আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদেরকে অন্য যে প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে।
“আমার কাছে প্রাথমিক যে তথ্য আছে, তা সংখ্যাটা ২৮০-৩০০ হবে। যারা আছেন, এর মধ্যে সাংবাদিক আছেন কিনা বা অন্য পেশার কে আছেন, পুরা বিষয়টি আমরা যাচাই-বাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।”
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য রয়েছে।
তিনি নিজেই ফেইসবুকে হ্যান্ডকাফ পরা একটি ছবি দিয়ে বলেছেন, “আজ জাসদের প্রতিনিধি সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় আমাকে সহ অনেককে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, আমি জানি না। পল্টন থানায় আছি।”
এর আগে অভিযান শুরুর সময় জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে অন্তত ৪০০ লোক থাকার তথ্য দিয়েছিলেন পল্টন থানার এসআই নাজমুল হোসেন।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বিকাল সোয়া ৪টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি, ওই কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান হয়েছিল, আর ভেতরে একটি মিটিং চলছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে।”
সে সময় জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা করার সময় দুপুর আড়াইটায় তাদের ওপর ‘হামলা’ হয়েছে।
“প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে।”
দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে বলতে দেখা যায়, “এখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “এটা মিথ্যা কথা, আমাদের প্রতিনিধি সভা চলছিল।
“এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসবে কেন, একটা কিছু বলে আমাদের উপর আক্রমণ করাটাই বিষয়।”
তিনি দাবি করেন, বেলা ৩টার দিকে পুলিশ এসে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জাসদ কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে জাসদ নেতাকর্মীদের আটক শুরু করে।
