হেঁটে সাড়ে ৫ কিলোমিটারের শোভাযাত্রায় তারেক রহমান
সরকারপ্রধানের একগতিতে হাঁটার পথে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে হিমশিম খেতে দেখা গেছে।
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের বেশি পথ নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাঁটলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের করা শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন তিনি।
দেড় যুগ বাদে এবারই প্রথম সরকারিভাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে ‘সার্বভৌমত্ব শোভাযাত্রা’ আয়োজন করে বিএনপি।
শোভাযাত্রাটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেইট, ইন্দিরা রোড হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়।
সরকারপ্রধান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে শোভাযাত্রা শুরু করেন বিকাল সোয়া ৩টায়। ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার হেঁটে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে পৌঁছান সাড়ে ৪টায়।
প্রধানমন্ত্রীর পরনে ছিল সাদা হাফ হাতা শার্ট আর ধূসর রঙের প্যান্ট। পায়ে ছিল গাঢ় নীল কেডস।
সরকারপ্রধানকে একনজর দেখতে সড়কের দুই ধারে দাঁড়ানো হাজার হাজার মানুষ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। বিভিন্ন ভবনের ছাদে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাস্যোজ্জ্বল মুখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
সরকারপ্রধানের একগতিতে হাঁটার পথে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে ছিলেন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা। তারাও প্রধানমন্ত্রীর অবিরাম হেঁটে যাওয়ার গতি দেখে অবাক হয়েছেন।
সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এভাবে কোনো প্রধানমন্ত্রীর টানা হাঁটার দৃশ্য বাংলাদেশে নজিরবিহীন ঘটনা। গণতন্ত্র বিনির্মাণের অভিযাত্রায় এটাই দেশবাসীকে উজ্জীবিত করবে বলে আমি মনে করি।
“এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচিতে গিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন।”
অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন বলেন, “পুরো পথে কোথাও প্রধানমন্ত্রীর হাঁটার পথে ছন্দপতন ঘটেনি। একটানা হেঁটে গেছেন। অন্য নেতাদেরও বলেছেন, ‘হাঁটেন’।”
প্রধানমন্ত্রীর এ দীর্ঘ চলার পথে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ অনেক নেতা ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলামও শোভাযাত্রায় ছিলেন। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে থাকা এসব নেতার মুখাবয়বে ক্লান্তির ছাপ ফুটে ওঠে।
এর আগে বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। উঠেই তিনি বক্তব্য দেন।
এ সময় মঞ্চে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খানসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।
এর আগে বেলা ১২টা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন। কাকরাইল মোড় থেকে শুরু করে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকের ঢল জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড রয়েছে। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
লন্ডনে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর তিনি বহু জনসভা, পথসভা ও সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন। তবে দেশে ফেরার পর দলীয় কোনো শোভাযাত্রায় তার অংশগ্রহণ এই প্রথম।
