নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবেন, কারা পারবেন না

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের যোগ্যতা ও শর্তাবলী তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Nov 2023, 06:02 PM
Updated : 16 Nov 2023, 06:02 PM

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণার পর একটি পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, যেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা ও শর্তাবলী তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতার ওই শর্তগুলোকে ব্যাপক প্রচারে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান।

নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংবিধানের বিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধানগুলো উল্লেখ করা হয়েছে পরিপত্রে। এর মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ের স্পষ্টিকরণের জন্য ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়েছে।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক ২৫ বছর বয়স হলে সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন।

তবে আদালতে অপ্রকৃতিস্থ ও দেউলিয়া হলে; বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা আনুগত্য স্বীকার করলে; নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দুই বছর বা তার বেশি সময় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে; ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে; প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হলে অথবা অন্য কোনো আইনে নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হলে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

প্রার্থীকে বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচনী এলাকায় ভোটার হতে হবে। দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না। তবে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে আসলে নির্বাচনের অযোগ্য হবেন না।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলে গণ্য হবে না।

প্রজাতন্ত্রের কর্ম বলতে অসামরিক বা সামরিক ক্ষমতায় বাংলাদেশ সরকার-সংক্রান্ত কর্ম, চাকুরী বা পদ এবং সরকারের সংবিধিবদ্ধ যে কোনো কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বোঝাবে। 

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়র ও চেয়ারম্যানদের প্রার্থী হওয়ার নিয়মে বলা হয়েছে- উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়রের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত, আধা- স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অফিস/প্রতিষ্ঠানের বা করপোরেশন অথবা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কর্তৃপক্ষ এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোর চুক্তিভিক্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য পদত্যাগ করতে হবে।

কোনো ব্যক্তি দেশের কোনো নির্বাচনী এলাকায় ভোটার হিসাবে তালিকাভুক্ত না হলে; কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত না হলে বা একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হবেন না।

প্রজাতন্ত্র বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর, অবসরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে এবং বিদেশি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের অনুদানে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থার কার্যনির্বাহী পদ থেকে পদত্যাগ বা অবসর বা পদচ্যুতির ক্ষেত্রে তিন বছর ও দুর্নীতির কারণে চাকরিচ্যুৎ বা বাধ্যতামূলক অবসরের ক্ষেত্রে পর পাঁচ বছর অতিক্রম না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

কোনো সমবায় সমিতি এবং সরকারের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে বা সরকারের কোনো চুক্তির বাস্তবায়ন বা সেবা কার্যক্রমে নিজ নামে বা ট্রাস্টি হিসাবে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নামে, বা তার সুবিধার্থে বা তার উপলক্ষে বা কোনো হিন্দু যৌথ পরিবারের সদস্য হিসাবে তার কোনো অংশ বা স্বার্থ রয়েছে এ ধরনের চুক্তিতে আবদ্ধ হলে; ব্যক্তি এককভাবে বা কোনো কোম্পানির পরিচালক/অংশীদার হিসেবে ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ ছাড়া ঋণগ্রহীতা হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনের আগে ঋণ বা তার কোনো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে; টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা সরকারের সেবা প্রদানকারী কোনো সংস্থার অন্য কোনো বিল মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনের আগে পরিশোধে ব্যর্থ হলে নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের অধীনে অপরাধী (একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী) সাব্যস্ত হলেও নির্বাচন করা যাবে না।

মনোনয়নপত্র জমার ক্ষেত্রে করণীয়

তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত, তা বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর।

নির্ধারিত ফরমে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষরিত মনোনয়ন প্রস্তাব পৃথক মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। মনোনয়নে সম্মতি প্রদান করেছেন এবং তার সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হবার বা সদস্য থাকার কোনো অযোগ্যতা নেই মর্মে ঘোষণা দিতে হবে।

কোনো প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী অন্য কোনো মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী স্বাক্ষর করেননি বলে ঘোষণা দিতে হবে।

প্রার্থী তিনটির বেশি নির্বাচনী এলাকার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি বলে ঘোষণা দিতে হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে, নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা (তবে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে এর দরকার হবে না); নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পক্ষে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারীর স্বাক্ষরিত মনোনয়নের প্রমাণ (নিবন্ধিত দল প্রাথমিকভাবে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রদান করতে পারবে); প্রার্থীর স্বাক্ষরিত একটি হলফনামা-যেখানে অর্জিত সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি দিতে হবে।

এছাড়া বর্তমানে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত আছেন কি না; অতীতে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো ফৌজদারি মামলার থাকলে তার রায়, ব্যবসা বা পেশার বিবরণী; আয়ের উৎসসমূহ, নিজের বা নির্ভরশীলদের পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী, অতীতে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হলে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতগুলো পূরণ হয়েছে তার তথ্য, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে একক বা যৌথভাবে বা নির্ভরশীলদের নামে ঋণ থাকলে তার তথ্য, রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র যুক্ত করতে হবে।

কোনো ব্যক্তি একই নির্বাচনী এলাকার জন্য একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বৈধ হিসাবে প্রাপ্ত একটি মনোনয়নপত্র বাদে অন্যগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার উভয়ের কাছে দাখিল করা যাবে।

৬৪ জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের দুই বিভাগীয় কমিশনার মিলিয়ে মোট ৬৬ জন রিটার্নিং অফিসার এবার নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন।

৪৯৫ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ৫৬ জন থানা নির্বাচন অফিসার, স্থানীয় সরকারের (ডিডিএলজি) ১৪ জন উপ-পরিচালক, ৮ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিটি করপারেশনের ১১ জন জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যান্টনমেন্টের পাঁচজন এক্সিকিউটিভ অফিসার, দুইজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং একজন সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন) মিলিয়ে মোট ৫৯২ জন থাকবেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার হিসেবে।