লালবাগে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গিয়ে মারামারি দেখলেন ওবায়দুল কাদের

লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অন্তত পাঁচবার মারামারি বাধে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 03:59 PM
Updated : 20 Sept 2022, 03:59 PM

ঢাকার লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে মারামারি হবে- এমন শঙ্কা নিয়ে এসে তাই দেখলেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

মঙ্গলবার লালবাগ থানা আওয়ামী লীগ এবং ২৩,২৪,২৫,২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্তত পাঁচবার মারামারি বাধে।

সম্মেলনের শুরুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের সমর্থকদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে মারামারি শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

দ্বিতীয় দফায় হাজি সেলিম সমর্থকদের সঙ্গে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকের সমর্থকদের মারামারি হয়।

সম্মেলন শুরু হলে আবার মারামারিতে জড়ায় হাজি সেলিমের সমর্থক, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সমর্থক এবং সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সমর্থকরা।

এক পর্যায়ে পুলিশ সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেও মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। সম্মেলন মাঠের ফটক পুলিশ আটকে দিলে তা ভেঙে ঢুকে পড়ে জালাল মহিউদ্দিন সমর্থকরা।

পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শুরু হলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বক্তব্য দেওয়ার মধ্যেই সম্মেলনের মাঠে আবারও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে হাসিবুর রহমান মানিক ও হুমায়ুন কবির সমর্থকরা।

এ সময় বক্তৃতারত রাজ্জাক বলে উঠেন, “মারামারি থামানোর জন্য আহ্বান করছি। বিশৃঙ্খলা করবেন না, বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থামুন আপনারা।

“আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপনাদরর মাঝে এসেছে, এর গুরুত্ব উপলব্ধি করুন আপনারা। আবারও আহ্বান করছি থামুন।”

তখন নগর আওয়ামী লীগ নেতারা মঞ্চ থেকে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সম্মেলনে মারামারির শঙ্কা ছিল জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্যে বলেন, “মির্জা আজম আমাকে বলেছে, আজকে মিটিং করা সম্ভব হবে না। আমি বলেছি, ওই মাঠে যাব এবং বক্তৃতা করব।”

কোন্দলরতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “লাফালাফি, বাড়াবাড়ি করবেন না। নির্বাচনের ১৪ মাস বাকি, অথচ শোডাউন দিয়ে শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছেন! আপনারা কেউ এমপি হতে পারবেন না, নেতা হতে পারবেন না।”

যাদের সমর্থকরা বার বার মারামারিতে জড়িয়েছেন, তারা সবাই আগামী নির্বাচনে ঢাকা-৭ (লালবাগ) আসনের নৌকার প্রার্থী হতে ইচ্ছুক।

সম্মেলন মঞ্চে সঞ্চালনা ও বক্তব্য রাখতে গিয়েও তর্কে জড়ান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।

লালবাগের নবাবগঞ্জ পার্কে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আইন সম্পাদক নাজিবুল্লাহ হিরু, কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

মাঠ ছাড়ব না: কাদের

সম্মেলনে বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথ ছাড়বে না।

তিনি বলেন, “২২ দলীয় জোট গতবারও ছিল। সেই ২২ দলের অবস্থা জগাখিচুরি, ছত্রভঙ্গ। এবারও, আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনই সার। কাজেই লাফালাফি করবেন না, বাড়াবাড়ি করবেন না। আমাদের নেতাদেরও বলব লাফালাফি, বাড়াবাড়ি করবেন না। নির্বাচনের ১৪ মাস বাকি।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি নেতারা বলছে, রাজপথ দখলে নেবে। রাজপথ বিএনপির বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়। রাজপথ জনগণের, রাজপথ এই নগরী, রাজপথ ঢাকাবাসীর। রাজপথ বিএনপির পৈত্রিক সম্পত্তি নয়।

“রাজপথে আন্দোলনে করুন শান্তিপূর্ণভাবে। আসুন খেলা হবে, আমরা মাঠ ছাড়বো না। রাজপথ দখল নিতে হবে। সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। আপনারা ফাঁকা মাঠে তাফালিং করবেন, আর আওয়ামী লীগ আঙুল চুষবে, এটা মনে করবেন না।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা করলে কেউ ছাড় পাবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলে এসেছি, ক্যাম্পাসে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি করবে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করবে শেখ হাসিনা তাদের রেহাই দেবে না।”

‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সব সংকট কাটিয়ে দেশ স্বস্তির দিকে যাচ্ছে’ দাবি করে তিনি বলেন, “আমি ঢাকার জনগণকে বলবো, আপনারা কষ্ট করছেন। এ কষ্ট আমাদের সৃষ্টি নয়।

“আজকে জীবনযাত্রার মান, আজকের টেনশন, জ্বালানির দাম সারাবিশ্বে বেড়ে গেছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এই সংকটকে আরও প্রকট করেছে। শেখ হাসিনা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। চিন্তা করবেন না, বাংলাদেশে এমন কোন সংকট হবে না। আগামীদিনগুলি ভালোই যাবে, এখনই স্বস্তির দিকে ফিরে যাচ্ছি।

“আমি জনগণকে বলবো, আপনারা বঙ্গবন্ধুর কন্যার প্রতি বারবার আস্থা রেখেছেন। এ সংকট বেশিদিন থাকবে না, দুর্দিন চলে যাবে। আবার সুদিন আসবে। আমি আপনাদের অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি,” বলেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক