বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে ‘প্রকৃত সত্য’ জানিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বিবৃতি

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 11:31 AM
Updated : 2 August 2022, 11:31 AM

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিএনপি অব্যাহত ‘মিথ্যাচার’ করছে বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “প্রকৃত সত্য হচ্ছে, দেশে তেল (জ্বালানি তেল) মজুদ রয়েছে ৪০ দিনের। এছাড়া তেলবাহী জাহাজ বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় আছে।”

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরে আসা দলীয় সাধারণ সম্পাদকের এই বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত এক যুগের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।

ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সঙ্কটে পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে আনাসহ জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিতে হয়েছে সরকারকে।

এতে বিদ্যুতে লোড শেডিং ফিরে আসায় একে সরকারের ব্যর্থ হিসাবে দেখাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

তার জবাব দিতে দেওয়া বিবৃতিতে কাদের বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরে শেখ হাসিনা সরকার বৈপ্লবিক সাফল্য দেখিয়েছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়, তখন দেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ২২০ কিলোওয়াট, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ কিলোওয়াটে।”

২০০৯ সালের শুরুতে যেখানে দেশে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাভুক্ত ছিল মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ, এখন তা শতভাগে উন্নীত হওয়ার হিসাবও দেন তিনি।

কাদের আরও বলেন, ২০০৯ সালের শুরুতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৭ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট।

২০০৯ সালের শুরুতে দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ, ২০২২ এর এপ্রিলে তা বেড়ে ৪ কোটি ২৭ লাখ হওয়ার হিসাবও দেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “একটি মতলবি মহল ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ভুয়া জিগির তুলছেন। প্রকৃতপক্ষে, ভারত থেকে দেশে আমদানিকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ মোটের উপর মাত্র ১০ শতাংশ।”

দেশে ৪০ দিনের তেল মজুদ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলছেন, দেশে নাকি ১৩ দিনের অকটেন এবং ১৭ দিনের পেট্রোলের রিজার্ভ আছে।

“অথচ প্রকৃত সত্য হলো, সামান্য পরিমাণে বুস্টার ছাড়া দেশে অকটেন ও পেট্রোল আমদানি করা হয় না। প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের কনডেনসেট থেকে রিফাইন করে পেট্রোল ও অকটেন তৈরি করা হয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, দেশে জ্বালানি তেল মজুদ আছে ৩৭ দিনের। তারা একথা বলছেন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, দেশে তেল মজুদ রয়েছে ৪০ দিনের। এছাড়াও তেলবাহী জাহাজ বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় আছে।”

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি নিয়ে যারা কথা বলেন, প্রকৃতপক্ষে তারাই দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের সুষ্ঠু নীতি ও সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা না থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হত না। সরকারের এ সাফল্যে বিএনপি ঈর্ষান্বিত হয়ে বরাবরের ন্যায় নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।”

বিএনপির শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করে কাদের বলেন, “বিএনপি নেতারা সহজে তাদের অতীত ভুলে যেতে চাইলেও জনগণ ঠিকই তা মনে রেখেছে। তাদের শাসনামলে দেশে দিনে ১৩/১৪ ঘণ্টা লোড শেডিং চলতো। তাদের সময়ে দেশ ছিলো অন্ধকারে নিমজ্জিত।

“ক্ষমতায় আসার জন্য তারা দেশের মূল্যবান খনিজ সম্পদ বিদেশি প্রভুদের হাতে তুলে দিয়েছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে শুধু খাম্বা স্থাপন করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। বিকল্প ক্ষমতা কেন্দ্র হাওয়া ভবন আর খোয়াব ভবন আলোকিত রাখতে গিয়ে সারা দেশকে অন্ধকারে রেখেছিল বিএনপি।”

“সেই অন্ধকারময় সময় পেছনে ফেলে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে আলোকিত বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক সকল ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্যের স্মারক রেখেছেন, যা বিশ্বসভায় প্রশংসিত হয়েছে,” বলেন তিনি।

বিদ্যুতে রেশনিং সাময়িক পদক্ষেপ বলে জনগণকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে।

“ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার আশঙ্কা কাটাতে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশকেও কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে রেশনিং করা হচ্ছে, যা একটি সাময়িক পদক্ষেপ।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক