সাম্প্রদায়িকতা রুখতে বাদশার মত নেতৃত্ব দরকার: মেনন

“মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তিনি সবসময় লড়ে গেছেন,” বলেন মেসবাহ কামাল।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Nov 2022, 09:00 PM
Updated : 19 Nov 2022, 09:00 PM

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমানে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহত করতে ফজলে হোসেন বাদশার মত নেতৃত্বের দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, “আজকে আন্দোলনের নামে, নির্বাচন নিরপেক্ষ করার নামে সাম্প্রদায়িক শক্তির যে আস্ফালন শুরু হয়েছে, সেটি ভয়াবহ। আর এই সাম্প্রদায়িকদের প্রতিহত করতেই বাদশার মত নেতৃত্ব প্রয়োজন।”

শনিবার বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর আয়োজনে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার ৭০তম জন্মবার্ষিকী ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী বাদশাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে মেনন বলেন, “বাদশাকে স্মরণ করিয়ে দেই, দেশের পরিস্থিতিতে বাদশাকে এখনও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

“বৈশ্বিক সংকটকে মাথায় রেখেই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করে যেতে হবে। বাদশা আরও দীর্ঘজীবী হোক।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল।

তিনি বলেন, “জেনারেল জিয়া স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করেছিলেন; সেই সময়ে যে কয়জন বিপ্লবী ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একাত্তরের সাহসী যোদ্ধা ফজলে হোসেন বাদশা।“

প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে বাদশার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিভক্তির ধারাকে প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যবদ্ধ করেছেন তিনি৷ ছাত্রসমাজকে একত্রিত করে জাতীয় রাজনীতির সাথে একীভূত করার মতো বিরল এবং কঠিন কাজটি করেছেন তিনি।”

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজশাহীতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গি সংগঠক বাংলা ভাইয়ের বিরুদ্ধেও তিনি সাহসী ভূমিকা রাখেন বলে উল্লেখ করেন মেসবাহ কামাল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, “২০১১ সাল থেকে বাদশা ভাইয়ের সাথে আমার সখ্য গড়ে উঠে। আমি ছাত্রলীগ করতাম। সে দলে থেকেও আমি কমিউনিস্ট পার্টির বন্ধুদের সাথে বেশি যুক্ত ছিলাম। বাদশা ভাইয়ের সাথে আমার সম্পৃক্ততা বেশি ছিল।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন,

“বাদশা ভাই শুধু আদিবাসীদের জন্য নয়, প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। বাদশা ভাই জীবনের সঙ্গে জীবনের মেলবন্ধন তৈরিতে যে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন, সেটিকে অব্যাহত রাখবেন আমি এই আশাই করি।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন বাদশা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যে ভূমিকা রেখেছিলেন তা তুলে ধরতে গিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা যারা সমসাময়িক সময়ে প্রগতিশীল শিক্ষক ছিলাম, তারা বাদশার উপরেই বেশি নির্ভর করতাম।“

সবার শুভেচ্ছা আর স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাতা সংসদ সদস্য রাজনীতিবিদ ফজলে হোসেন বাদশা।

বক্তব্যের শুরুতেই রাজনৈতিক জীবনের কিছু ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “জেনারেল জিয়ার আমলে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে আমাকে জেলে যেতে হয়েছিল। সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলার অভিযোগে আমাকে আটক করা হয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি রাজাকার হয়, তাহলে আর দেশের কী হবে?”

“আমার যেদিন বিচার হয়, সেদিন বিচারপতিকে আমি বললাম, আমি একটাই প্রশ্ন করব, আমি যে শাহ আজিজকে রাজাকার বলছি, এটা কি সত্য না মিথ্যা? তিনি পাথরের মত বসে ছিলেন। কোনো উত্তর দিতে পারেননি। আমি সত্য কথা বলেছি, আমার জেল খাটতে কোনো আপত্তি নাই। আমাদের ছাত্র রাজনীতির মূলনীতিই সত্য কথা বলা।”

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বাদশা বলেন, “ছাত্রমৈত্রীর অসংখ্য নেতাকর্মী ছাত্রশিবিরের চক্ষুশূল হয়েছিল, তাদের খুন হতে হয়েছিল। আমি ছাত্রনেতাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেই প্রতিনিয়ত আমার দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করেছি, এবং করছি।”

অনুষ্ঠানে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের টেকনোক্র্যাট সদস্য জান্নাত-এ ফেরদৌস লাকী, সংসদ সদস্য ও পাহাড়ী আদিবাসী নেতা উষাতন তালুকদার, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য নূর আহমেদ বকুলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাসভা শেষে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক