যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা শিগগিরই: ফখরুল

“অতি দ্রুত এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা আপনাদের সামনে, জাতির সামনে আসব” বলেন বিএনপি মহাসচিব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 12:45 PM
Updated : 13 Sept 2022, 12:45 PM

সরকার হটাতে যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করে শিগগিরই জাতির সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

“আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ করছি এবং দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রেক্ষিতে যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত গতকাল স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত হয়েছে। 

“অতি দ্রুত এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা আপনাদের সামনে, জাতির সামনে আসব।” 

রূপরেখায় কী থাকবে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা বলছি যে, এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে একটা সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য। 

“এই সংসদ বাতিল করতে হবে এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, যাদের নেতৃত্বে নতুন একটা নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। 

“তারা সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সকল ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এটাই আমাদের প্রধান বিষয়।” 

স্থায়ী কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, “তাছাড়া আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন যে, নির্বাচনের পরে আন্দোলনকারী যেসব দলগুলো থাকবে তাদের সমন্বয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। 

“এর প্রধান কারণটা হচ্ছে এখানে, এই যে ক্ষতগুলো সৃষ্টি করছে আওয়ামী লীগ, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থায়, সেগুলো এককভাবে করাটা যুক্তিসঙ্গত হবে না; সেই কারণে অন্যান্য দলকে যুক্ত করতে চাই। 

“যাদের যৌথ আলোচনায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন- বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পার্লামেন্ট, মিডিয়া; এসবের ক্ষেত্রে যেন আমরা সুস্পষ্ট সকলের সর্বসম্মতিক্রমে না হলেও কনসেনসাসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারি; সেজন্য আমরা এই চিন্তাটা (জাতীয় সরকার) করেছি।”   

সোমবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্তগুলো সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, আমরা যুগপৎ আন্দোলন করব এবং সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের আহবানও তাই। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে যুগপৎ আন্দোলনের আহ্বান জানাচ্ছি। 

“তারপরে যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে কি হবে সেটা নির্ধারিত হবে।”

জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সঙ্গে আন্দোলনের বিষয়ে সংলাপ করবেন কি না প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জাতীয় পার্টির সঙ্গে এখনও আমরা ফরমালি কোনো আলাপ-আলোচনা করিনি।”  

যুগপৎ আন্দোলনে সব দলের জন্যই দরজা খোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের রাস্তা খোলা। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি যে কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সংগঠন যারা এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করবে, তাদের নিয়ে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করব।”

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না এবং ২০ দলীয় জোটে থাকা না থাকা নিয়ে তাদের দেওয়া বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ নিয়ে আমি আপনাদের সঙ্গে আগে কথা বলেছি। 

“ওরাও (জামায়াত) একটু বক্তব্য দিয়েছে। আমরা যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি এখন। এটা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। সকল দল সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলন করবে। এটাই হচ্ছে আমাদের কথা।” 

‘অর্থ লুটে চার কুইক রেন্টালে মেয়াদ বৃদ্ধি’ 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “যেখানে বিদ্যুৎ বোর্ড জ্বালানি অপ্রতুলতার কারণে সবকয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন করতে পারছে না, উৎপাদন না করেও শত শত কোটি টাকা ভুর্তকি প্রদান করছে। 

“সরকারের সেখানে চারটি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। আমরা সরকারের এহেন সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। 

“আরও  চারটা কুইক রেন্টালের মেয়াদ বৃদ্ধির একটাই কারণ হচ্ছে যে, ওই ক্যাপাসিটি চার্জ যা আসবে সেই টাকাটা ভাগ করে খেয়ে ফেলা।” 

‘ওষুধের দাম বৃদ্ধি অনৈতিক’ 

মির্জা ফখরুল বলেন, “স্বাস্থ্য সেবায় ব্যবহৃত ২০টি জেনেরিকের ৫০টি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম ৫০ শতাংশ থেকে ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

“গুটিকতক ব্যবসায়ীকে মুনাফা পাইয়ে দেওয়ার জন্য অনৈতিকভাবে ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি করছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

‘পুলিশ বিএনপির প্রতিপক্ষ নয়’ 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “পুলিশ হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রীয় সংগঠন। আমরা কখনোই পুলিশকে প্রতিপক্ষ মনে করি না। পুলিশ জনগণের বন্ধু হওয়া উচিত, বন্ধু বলে মনে করি আমরা এবং সেটাও আমরা মনে করি যে, তাদের সংবিধানিক যে দায়িত্ব আছে সেই দায়িত্ব তারা পালন করবে।

“কিন্তু সরকার অবৈধভাবে টিকে থাকার জন্য সংবিধান লঙ্ঘন করে, মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যখন পুলিশকে ব্যবহার করে, তখন নিঃসন্দেহে সেই বিষয়গুলো জনগণের সামনে, মানুষের সামনে এসে দাঁড়ায়।

“আজকে র‌্যাববে যে কারণে স্যাংশান দেওয়া হয়েছে, আমেরিকা যে কারণে স্যাংশান দিয়েছে, সেই র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগটা হচ্ছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন।”

 তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে দেওয়া যে, আপনারা সরকারের অবৈধ নির্দেশে, বেআইনি নির্দেশে এমন কেনো কাজ করবেন না, যে কাজগুলো আবার আপনাদের ওপরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটা অভিযোগ আসতে পারে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনারা ভালো করে লক্ষ্য করে দেখবেন যে, সব জায়গায় এই ঘটনাগুলো ঘটছে না বা সব পুলিশই এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে না। কয়েকটা জায়গাতে অতি উৎসাহী কিছু অফিসার তারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

 “আমি যেটা জানতে চেয়েছিলাম যে, নারায়ণগঞ্জে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে গুলি হল সেটা কিভাবে হল, কোন কর্তৃত্ব থেকে সে (গোয়েন্দা পুলিশ) এটা ব্যবহার করতে পারল। সেই উত্তর কিন্তু এখনও বাংলাদেশের মানুষ পায়নি।”

সোমবার জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলনে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ‘বড় করে’ উঠে এসেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন,  “বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য তারা এখানে একটা নিরপেক্ষ স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সহায়তা করতে তারা সরকারকে বলেছে যে, আমাদেরকে সুযোগ দাও, আমরা এটা করতে চাই।

 “অর্থাৎ এখানে যে, মানবাধিকার লঙ্ঘেন হচ্ছে সেই মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলো যেন বন্ধ করা যায়।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক