ব্রিকসের সদস্যপদ না পাওয়াকে সরকারের ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখেছেন এই বিএনপি নেতা।
Published : 28 Aug 2023, 04:09 PM
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেছেন, সরকার ‘ভয় পাচ্ছে’ বলেই তাদের নেতা তারেক রহমানের বক্তব্য অনলাইন থেকে সরানোর নির্দেশ এসেছে আদালত থেকে।
হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ সোমবার তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সব বক্তব্য অনলাইন থেকে সরাতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়ার পর এক আলোচনা সভায় মঈন খানের এ বক্তব্য আসে।
তিনি বলেন, “আমরা শুনেছি একটি নির্দেশ এসেছে। কি নির্দেশ? একজন মানুষ তিনি বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার মাইল দূরে বসবাস করেন। তার কথা, বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের কথা কোনো রকমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন কোথাও কেউ কিছু উল্লেখ করতে পারবেন না। সেখান থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
“এতো ভয় কেন? একজন মানুষকে কেন ভয়? তার কারণ তিনি (তারেক রহমান) আজকে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে পৌঁছে গেছেন এবং এই সরকার আজকে জনগণকে ভয় পায়।”
বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই তারেকের বিরুদ্ধে পাঁচ মামলায় সাজার রায় এসেছে।
আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকায় সাড়ে আট বছর আগে তার বক্তব্য বা বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করে হাই কোর্ট। এ বিষয়ে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার তারেকের সাম্প্রতিক সব বক্তব্য অনলাইন থেকে সরানোর জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
মঈন খান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে কেন মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করেছে। আজকে স্পষ্টভাষায় আমাদের এটা বুঝতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে এই সরকার ভয় পায়। কেনো ভয় পায়? দেশনেত্রী বেগম জিয়া গণতন্ত্রের কথা বলেন এই কারণে।
“সরকার ভেবেছিল, বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে দিলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ তারা চুপ হয়ে যাবে, তারা আর গণতন্ত্রের কথা বলবে না। আসলে এটা তো অলিক কল্পনা, এটা তো হতে পারে না।”
এই বিএনপি নেতা প্রশ্ন করেন– “পৃথিবীর কোনো সরকার কি পেরেছে? কোনো সরকার, তার যত বন্দুক, কামান, গোলা থাকুক না কেনো, তারা কি মানুষের ভাষাকে বন্ধ করে দিতে পেরেছে? পারেনি। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন চুপ করে থাকে না।”
‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম’৭১ এর উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়।
‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’
ব্রিকসের সদস্যপদ না পাওয়াকে সরকারের ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, “এই সরকার আজকে শুধু অর্থনীতিতে ব্যর্থ হয় নাই, কূটনীতিতেও ব্যর্থ।”
মেগা প্রজেক্টের জন্য সরকারের প্রশংসা করলেও সেখানে দুর্নীতির অভিযাগ তুলে আলোচনা সভায় সমালোচনা করেন এই বিএনপি নেতা।
তিনি বলেন, “হ্যাঁ আমি বুঝি, তারা মেগা প্রজেক্ট করেছে। আমি তাদের প্রশংসা করি। যদি ভালো কাজ করে থাকে সেটা বলব না কেন? কিন্তু মেগা প্রজেক্টের নামে যে মেগা দুর্নীতি হয়েছে, সে কথাও তো আমাকে বলতে হবে।
“দেখুন, যতই অস্বীকার করুক সরকার, আজকে তার ফল কী হয়েছে? সরকার বড়াই করে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিল, সেখানে ব্রিকসের মেম্বার হবে। আজকে কেন আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র যারা ব্রিকসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন, কেন তারা আজকে চরম বন্ধু রাষ্ট্র হয়েও আমাদেরকে প্রত্যাখান করল?”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “বাস্তবতা হচ্ছে, এই যে লক্ষ লক্ষ হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করে তারা বাংলাদেশকে অর্থনীতির দিক থেকে ফোকলা করে দিয়েছে, সেই ফোকলা হওয়ার কারণে আজকে কোনো যুক্তি দিয়ে বাংলাদেশকে তারা এখন ব্রিকসের সদস্য পদ দিতে পারে নাই।
“আমি জানি না, আজকে থেকে কত বছর পরে আবার আবেদন করবে এই দেশ এবং ব্রিকসের সদস্য হবে সেটা পরবর্তী প্রজন্মের দেখার বিষয়। কিন্তু এটুকু আমরা বলতে পারি যে, আজকে যেভাবে বিশ্ব পরিমণ্ডলে আমাদেরকে প্রত্যাখান করছে, বাংলাদেশকে সদস্যপদ দেয়নি, আজকে লজ্জায় আমাদের মাথা কোথায় রাখি!”
‘কর্পূরের মতে উড়ে যাবে’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম বদলে সাইবার নিরাপত্তা আইন করার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তাকে ‘নতুন বোতলে পুরনো ডিএসএ’ হিসেবে বর্ণনা করেন মঈন খান।
তিনি বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, মানুষের কণ্ঠরোধ কেউ করতে পারে না। মানুষ কথা বলবে, মানুষ ন্যায়ের কথা বলবে, মানুষ সত্য কথা বলবে, মানুষ স্বাধীনতার কথা বলবে, মানুষ গণতন্ত্রের কথা বলবে, মানুষ সুশাসনের কথা বলবে, মানুষ মানবাধিকারের কথা বলবে।
“এই কথা কেউ কোনো দিন বন্ধ করতে পারবে না। যে আইন করুক, যে নির্দেশ দেক সেগুলো দেখবেন আপনা-আপনি কর্পূরের মতো উড়ে যাবে।”
এই বিএনপি নেতা বলেন, “বাংলাদেশে মানুষের যে আন্দোলন, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সেই আন্দোলনের সামনে এই সরকারের সকল অপকর্ম-ধাপ্পাবাজি বাকশালী রাজনীতি সব কর্পূরের মত উড়ে যাবে।”
বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ এক রাতের মধ্যে ‘শেষ হয়ে যাবে’ বলে যে মন্তব্য ওবায়দুল কাদের করেছেন, তারও সমালোচনা করেন মঈন খান।
তিনি বলেন, “বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে কোনোদিন বিশ্বাস করে না, লগিবৈঠার রাজনীতিতে বিএনপি কোনো দিন বিশ্বাস করে না।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, “আমাদেরকে অনেকে জোক করে বলেন, ‘আরে আপনারা কি আন্দোলন করছেন? আপনারা তো আজ পর্যন্ত কঠিন আন্দোলন দিতেই পারলেন না।’ আমরা বিগত এক বছর ধরে বাংলাদেশে যে কঠিন আন্দোলন করেছি এর চেয়ে কঠিন, শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন আপনারা শত বছরের ইতিহাসেও দেখেননি।”
মঈন খান বলেন, “আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, আমরা এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। সেই কারণে আমাদের যে মেথোডলজি, যে পদ্ধতি, সেই পদ্ধতিও শতকরা একশ ভাগ গণতন্ত্রী। সেটা অনুসরণ করেই আমরা বিগত একবছর যাবত আন্দোলন করে যাচ্ছি।
“আগামীতে আমরা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে নৈতিকভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য করব।”
জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম’৭১ এর সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বক্তব্য দেন।