Published : 30 Jul 2026, 03:03 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বছর জামায়াতে ইসলামীর আয় আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে গেছে; ব্যয় হয়েছে আয়ের চেয়েও বেশি।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া জামায়াতের নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ পঞ্জিকা বছরে জামায়াতে ইসলামী ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ টাকা আয় করেছে। আর ব্যয় হয়েছে ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৪ টাকা।
এর আগে অভ্যুত্থানের বছর ২০২৪ সালে দলটি ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৯৯ টাকা আয় দেখিয়েছিল। সেবার ব্যয় হয়েছিল ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ টাকা।
এই হিসাবে ভোটের বছরে জামায়াতের আয়ের চেয়ে প্রায় ২৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসি সচিব আখতার আহমেদের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে। অডিট রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রতিবেদনে দলটির তহবিলের সার্বিক অবস্থাও তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয়, গত বছরের শুরুতে দলটির তহবিলে ১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ছিল। আয়-ব্যয়ের হিসাব শেষে বর্তমানে দলটির হাতে নগদ রয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ব্যাংকে জমা আছে ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৩ টাকা।
২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার পর জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন পেয়েছিল এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
তবে হাই কোর্টের এক রায়ে ২০১৩ সালে দলটির নিবন্ধন স্থগিত হয়ে যায় এবং ২০১৮ সালের অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ওই বছরের অক্টোবরে আপিল বিভাগের রায়ে নিবন্ধন ফিরে পায় জামায়াত।
এক যুগের বেশি সময় পর নিবন্ধন ফিরে পেয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে তারা বিগত বছরগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া শুরু করে।
দশম থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জামায়াত ভোটের মাঠে না থাকলেও, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জিতে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয় দলটি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি।
আরও পড়ুন: