খাতের মাসাদের ‘অর্থপাচার’: আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস
আরব আমিরাতের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ রাকিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাহী খাতের মাসাদের বিরুদ্ধে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলার বিচার চলছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ ‘রাস আল খাইমাহ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি’ (রাকিয়া) এর সাবেক প্রধান খাতের মাসাদের অর্থপাচারের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বুধবার ঢাকায় আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হামুদী তার কার্যালয়ে এলে মামলার বিষয়ে সর্বাত্মক আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। আলোচনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে চাহিদা মাফিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ। মামলার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হবে।
“সরকারের পক্ষ থেকে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএই ও রাকিয়াকে সহযোগিতা করার যে উদ্যোগ ছিল, সেটি অব্যাহত থাকবে।”
রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হামুদী সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশের আদালতে রাকিয়ার বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি ইস্যু (মামলা) আছে। আমরা বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি চাই।”
রাকিয়ার প্রধান নির্বাহী থাকার সময় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ ওঠে খাতের মাসাদের বিরুদ্ধে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাকিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন খাতের মাসাদ। বাংলাদেশের তিনটি কোম্পানি রাকীন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, স্টার সিরামিকস লিমিটেড ও স্টার পোরসেলিন লিমিটেডে তার শেয়ার রয়েছে।
স্টার সিরামিকে তার ৬ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার শেয়ার রয়েছে। স্টার পোরসেলিনে শেয়ার রয়েছে ২ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০টি এবং রাকীন ডেভেলপমেন্টে শেয়ার রয়েছে ৪ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০টি।
খাতের মাসাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট থাকার কথা জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী বলেন, আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে খাতের মাসাদের পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। দেশটির বিচারিক কর্তৃপক্ষ মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স এর মাধ্যমে তার শেয়ার বাজেয়াপ্তের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়।
সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের তিনটি কোম্পানিতে থাকা খাতের মাসাদের শেয়ার বাজেয়াপ্তের জন্য আদালতে আবেদন করে। পরে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস শেয়ার বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, বাজেয়াপ্ত শেয়ার রাকিয়া মনোনীত কোনো কোম্পানি বা আইনি সত্তার অনুকূলে হস্তান্তর করা হবে।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে খাতের মাসাদ হাই কোর্টে আপিল করেন। ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের নথি তলব করে হাই কোর্ট। এরপর হাই কোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে মামলার শুনানি হলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
সবশেষ গত ১৯ অগাস্ট বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে আপিলটি বাদ দেওয়া হয়।
ফৌজদারি আপিলের পাশাপাশি এই সংক্রান্ত হাই কোর্টের কোম্পানি বেঞ্চে অপর একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় রাকিয়ার স্বার্থ ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা তুলে ধরে আমিরাত দূতাবাস গত ২৮ জুন একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখানে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়।
এরপর গত ৩১ অগাস্ট আরব আমিরাত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে ‘রাকিয়ার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরে সমস্যা সমাধানে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহের কথা বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার আলোচনা করতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আসেন রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হামুদী।
এসময় বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুবাইয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
হামুদী বলেন, “আমি জানি না। বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি অন্য একটি বিষয় নিয়ে এখানে এসেছি।”
