Published : 07 Nov 2025, 04:53 PM
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির মুক্তি আসেনি, ‘আওয়ামী লীগের মুক্তি হয়েছিল’ বলে মনে করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, “যে স্বাধীনতা আমার একাত্তরে অর্জন করেছিলাম বিজয় দিবসের মধ্যে দিয়ে, সেখানে জাতির মুক্তি হয়নি। সেখানে মুক্তি হয়েছিল আওয়ামী লীগের। সেখানে মুক্তি হয়েছিল যুবলীগ-ছাত্রলীগের। কিন্তু জাতির মুক্তি হয়নি। জাতির মুক্তি হয়েছিল এই ৭ নভেম্বর।”
শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্য রাখছিলেন রিজভী।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান স্বপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনা প্রধানের দায়িত্ব আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনা বাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান হয়, জিয়া হন গৃহবন্দি।
৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন তিনি।
দিনটিকে বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস, জাসদ ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ এবং আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ পালন করে।
গত বছর অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, “আজকে যে অবিস্মরণীয় স্মৃতিকে ধারণ করে আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হচ্ছে তা শুধু নিছক আলোকচিত্র প্রদর্শনী না, এটা যেন ইতিহাসের প্রদর্শনী, ঐতিহাসিক মুহূর্তের জীবন্ত প্রদর্শনী। কারণ এই দিনেই আমাদের নতুন করে স্বাধীনতা হয়েছে।
“কারণ স্বাধীনতার পর যারা সরকার গঠন করলেন, তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকে জাতি মনে করতেন না।”
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশে তিনি বলেন, “তাদের নিজেদের কথা বলার অধিকার ছাড়া আর কারো কথা বলাকে একদমই পছন্দ করতো না। তবুও তারা নির্ভয় হতে পারেনি। সকল দল বন্ধ করে দিল। সংবাদপত্র, লেখার, পড়ার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করে দিল। এরপর ঘটলো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পালাবদল।”
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, ‘তারা শেখ মুজিবুরের সরকারের আরেকটি অংশ’ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “এই পাল্টাপাল্টির মধ্যেই জনগণ তাদের মুক্তির দিশারী হিসেবে ৭ নভেম্বর একজন মানুষকে পেলেন, যিনি সকল সংকটকালে জাতির দিশারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন। যেমন একাত্তর সালে, তেমনি ৭ নভেম্বর।”
জাতির আত্মপরিচয়ের ‘সংকট’ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাহাত্তরে যারা ক্ষমতা নিলেন, সেখানে সংকট তৈরি হয়েছিল। তারা যে জাতীয়তার কথা বললেন সেটাও একটা বিতর্কিত জাতীয়তাবাদ। এটা আঞ্চলিক পরিধিতে গণ্য হতে পারে, কিন্তু যে জাতীয়তার মধ্যে ভূখণ্ডের প্রতিনিধিত্ব নেই, যে জাতীয়তার মধ্যে আমার আলাদা স্বতন্ত্রের সত্ত্বা, পতাকার প্রতিনিধিত্ব নেই সেটা তো একটা জাতীয়তা হতে পারে না। সেটাও নিরসন করলেন জিয়াউর রহমান।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা পর্ব শেষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।