Published : 18 Jul 2026, 06:52 PM
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে একটি 'অনুসন্ধানী প্রতিবেদন' প্রচারের পরপরই চ্যানেল ওয়ানের ফেইসবুক পেইজে সাইবার হামলা হওয়ার অভিযোগ করেছে এ সংবাদমাধ্যম।
চ্যানেল ওয়ান বলছে, "এখনও হামলা অব্যাহত রয়েছে। সেইসাথে চ্যানেল ওয়ানের ইনস্টাগ্রামও হ্যাক করার চেষ্টা চলছে।"
শনিবার চ্যানেল ওয়ানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাদের ওয়ান বুলেটিনে ‘নীতি-নৈতিকতা ভেঙে সরকারের সাথে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর ব্যবসা; তিনটি মন্ত্রণালয়ে ঠিকাদারি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়, যেখানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মীর শাহে আলমের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ‘বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ’ তুলে ধরা হয়।
"প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঠিকাদারির মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজও রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরে সরকারের কাছ থেকে তিনি কাজ নিয়েছেন প্রায় ৪০ কোটি টাকার।"
এগুলোকে 'সংবিধান' ও 'নীতিবহির্ভূত' কাজ হিসেবে বর্ণনা করে আইনবিদ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চ্যানেল ওয়ানের প্রধান সম্পাদক নাজমুল আশরাফ শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ঘটনাটি সত্য। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই আমরা একের পর এক সাইবার হামলার শিকার হচ্ছি।"

ঠিক ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৭ এপ্রিল সম্প্রচারে ফেরে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন স্টেশন ‘চ্যানেল ওয়ান’।
২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ স্থগিত করলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ হাই কোর্টে আবেদন করে, তবে তা খারিজ হয়ে যায়।
শনিবার চ্যানেল ওয়ানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে ওই প্রতিবেদনটি চ্যানেল ওয়ানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হওয়ার পরে ফেইসবুক পেইজে ‘ক্রমাগতভাবে সাইবার হামলা’ হয়।
"'আনন্দবার্তা’ এবং ‘আলি খান’ নামে দুটি পেইজ থেকে ভুয়া কপিরাইট দাবি করে প্রতিবেদনটি ব্লক করা হয়।"
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বস্তুত চ্যানেল ওয়ানের নিজস্ব প্রতিবেদনের কপিরাইট অন্য কাউকে দেওয়া এবং প্রতিবেদনটি সাথে সাথে ব্লক করার ঘটনা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, বরং চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষ মনে করে এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে।
"অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংঘবদ্ধভাবে ভুয়া কপিরাইট দাবি করে ফেইসবুকে প্রতিবেদনটি ব্লক করার পাশাপাশি এ সম্পর্কিত সংবাদের ফটোকার্ডটিও সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর রাতভর বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চ্যানেল ওয়ানের বিভিন্ন কনটেন্টে রিপোর্ট করা হয়।"
টেলিভিশন স্টেশনটি বলছে, "বিশেষ করে মীর শাহে আলম সংক্রান্ত নতুন কোনো পোস্ট দিলেই ফেইসবুকে রিপোর্ট করা হয়। ভুয়া কপিরাইটের অভিযোগে কয়েকটি খবর, কার্ড এমনকি ফেইসবুক পেইজের প্রোফাইল ও কাভার ছবিতেও স্ট্রাইক দেওয়া হয়।
"এর উদ্দেশ্য ছিল চ্যানেল ওয়ানের ফেইসবুক পেইজ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া। ১৮ জুলাই শনিবার বিকালে চ্যানেল ওয়ানে সাইবার হামলাসম্পর্কিত খবরটিও ফেইসবুক পেইজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।"
চ্যানেল ওয়ান দাবি করেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে করা প্রতিবেদনটি ‘সাংবাদিকতার সকল নিয়ম ও নীতি-নৈতিকতা মেনে’ তৈরি করা হয়েছে।
"সুতরাং প্রতিবেদনটির বিষয়ে কারো কোনো বক্তব্য থাকলে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সেটির প্রতিবাদ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রচলিত পথে না গিয়ে সাইবার আক্রমণ চালিয়ে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষ এমন 'কাপুরুষোচিত' আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলছে, ফেইসবুক পেইজে পুরোপরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান জন্য চ্যানেল ওয়ান কাজ করে যাচ্ছে।