Published : 30 Apr 2026, 08:01 PM
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ভিত্তিগুলো ‘ধ্বংস করে দিয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার এসে সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। কোনো সিস্টেম রেখে যায়নি। আমরা যারা এখন মন্ত্রণালয় চালাই, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ২০ বছরের ভূত বসে আছে। সেগুলো পার হয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে।”
বর্তমান সরকার সেই ‘ভাঙা অবস্থা থেকে’ দেশকে টেনে তুলতে কাজ করছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই এমপি।
এর আগে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যা কিছু টিকে আছে, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
“উনি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, বাংলাদেশে কিছুই ছিল না। একটা ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা হত। তিনি তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের একেবারে প্যারাডাইম শিফট করে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটি উন্নয়নশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।”
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “আজ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যা কিছু টিকে আছে, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট, গার্মেন্টস, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত, সব কিছুর সূচনা তার সময়ে।”
তিনি বলেন, তাদের প্রজন্ম পাকিস্তান আমলে বড় হয়েছে। ছাত্র অবস্থায় শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন করেছেন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর একজন বিএনপির কর্মী হিসেবে রাজপথে আন্দোলন করেছেন।
যে মামলায় তিনি হাই কোর্টে খালাস পেয়েছিলেন, সেটিই পরে পুনরুজ্জীবিত করে ২০২২ সালে তাকে নয় বছরের জেল দেওয়া হয় এবং এরপর তিনি দেশ ছাড়েন বলে সংসদে তুলে ধরেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “হাসিনার জেলে যাব না।”
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ওপর ‘অমানবিক নির্যাতন’ দেখার পরই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরবেন না।
“আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, হাসিনার জেলে আমাকে যেতে হয় নাই। হাসিনাই দেশ ছেড়ে চলে গেছে।”
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “আমরা একটা নতুন স্বপ্ন দেখি, একটা নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি তারেক রহমানের নেতৃত্বে। জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশটাকে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন, তারেক রহমানও পারবেন এই দেশটাকে ঘুরিয়ে দিতে। এটাই আমাদের বিশ্বাস।”
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের সঙ্গে আমরা নিরলস পরিশ্রম করে এই দেশটাকে নতুন বাংলাদেশ বানাব, ইনশাআল্লাহ।”
কিছুদিন আগে বিরোধীদলীয় নেতা তেল ও বিদ্যুতের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর সরকার ‘সঙ্গে সঙ্গে’ কমিটি করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আগামী রোববারও আমরা বসব। কিন্তু আল্লাহর রহমতে পেট্রোলের লাইন আর নাই, বিদ্যুতের লোডশেডিংও কমে গেছে। আমরা কাজ করছি, চেষ্টা করছি দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।”
‘দেশটা স্বাধীন করেছে বাংলাদেশের মানুষ’
একাত্তরের ইতিহাস স্মরণ করতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হামলায় জাতি যখন দিশাহারা, তখন “ট্রানজিস্টারে মেজর জিয়ার কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে মানুষ নতুন সাহস পায়।”
তিনি বলেন, “এই একটি ছোট্ট কথাই তখন আমাদের রক্তের মধ্যে বিপ্লবের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। মনে হয়েছিল, বাঙালির সৈনিকরা আছে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালিরা রুখে দাঁড়িয়েছে, এই যুদ্ধে বাঙালি জয়ী হবেই। সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, তার নিজের এলাকার জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ হিসেবে দেখছেন।
তার ভাষায়, “১৯৭১ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের গর্বের জায়গা। ১৯৭১ না হলে আমরা আজ এই পার্লামেন্টে বসতে পারতাম না, মন্ত্রী হতে পারতাম না, সংসদ সদস্য হতে পারতাম না।”
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১১ দফা আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা শেষ পর্যন্ত এ দেশের মানুষই অর্জন করেছে।”
তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান; বলেন, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণকে তিনি সম্মান করেন।