খালেদার চিকিৎসা ‘আপাতত বাসাতেই’

বিএনপি নেতারা এক সময় তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জোর দাবি জানালেও মহামারীর মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘আপাতত’ তাকে বাসায় রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 May 2020, 11:06 AM
Updated : 8 May 2020, 11:06 AM

তার বোন সেলিমা ইসলাম শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “দেশের বর্তমান যে সার্বিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক যে অবস্থা, এখন তো সেটা তো সম্ভব নয়। সেজন্য তাকে বাসায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

“আর যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই টিমে যারা সদস্য, তারা সকলে এক্সপার্ট ফিজিশিয়ান।”

দুর্নীতির দায়ে ২৫ মাস সাজা ভোগের পর ‘মানবিক বিবেচনায়’ সরকারের নির্বাহী আদেশে গত ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তার আগে প্রায় এক বছর কারা তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তবে তার পরিবার এবং বিএনপি নেতারা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যায় ভুগছেন। তবে তার মূল সমস্যা গেঁটে বাত (অস্টিও-আর্থরাইটিস)। হাসপাতালে তাকে বিশেষ থেরাপি দেওয়ার কথা বলা হলেও তাতে তিনি সম্মতি দেননি।  

তার মুক্তির সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে, তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না- এই শর্তে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা‘য় ওঠেন এবং গত প্রায় দেড় মাস সেখান থেকে আর বের হননি।

বোন সেলিমা ইসলাম শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনি কোয়ারেন্টিনেই চিকিৎসার মধ্যে আছেন। তার শারীরিক অসুস্থতা এখনো কাটেনি, অগ্রগতি হচ্ছে ধীর গতিতে।

“এখনো তার হাত-পায়ে ব্যথা আছে, হাতের আঙ্গুল আগের মতই বাঁকা হয়ে আছে, ডায়াবেটিসও পুরো নিয়ন্ত্রণে নেই…। দোয়া করবেন উনি যেন দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।”

বাসায় ফেরার পর থেকে চিকিৎসকদের একটি দলের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। কয়েক সাপ্তাহ পরপর তারা এসে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে যান। সর্বশেষ গত সাপ্তাহেও তারা ফিরোজায় গিয়েছিলেন।

ওই চিকিৎসক দলের একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার। দীর্ঘ সময় ফিজিও থেরাপি,ফলোআপ আর মনিটরিংয়ের মধ্যে তাকে থাকতে হবে।”

পরিবারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসায় খালেদা জিয়ার সময় কাটে ইবাদত-বন্দেগিতে। মাঝে মাঝে টেলিফোনে দুই ছেলের স্ত্রী ও নাতনীদের সঙ্গে কথা বলেন।

বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও লন্ডন থেকে চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন বলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান।

সেলিমা ইসলাম বলেন, “অসুস্থতা থাকলেও উনি রোজা রাখছেন। প্রতিদিন আমরা দুই বোন একসাথে ইফতার করি। আর কেউ থাকে না। রাতে খাবারও একসাথেই হয়। আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী (শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা) বিকালে এসে সব কিছু ঠিকঠাক করে দিয়ে যায়।”

গুলশানে খালেদা জিয়ার ভাড়া বাড়ি ‘ফিরোজা’র নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, বাসায় প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। চিকিৎসক দলের সদস্য আর কয়েকজন নিকট আত্মীয় ছাড়া আর কারও ঢোকার অনুমতি নেই।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক