চালককে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাই: তিন আসামির যাবজ্জীবন
চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশা ছিনতাই করে কুমিল্লায় গিয়ে নম্বর প্লেট বদলানোর সময় তারা ধরা পড়েন।
সতের বছর আগে চট্টগ্রামের আগ্রবাদে চালককে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ কামাল হোসেন সিকদার মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা হলেন- সুমন দাশ, হৃদয় হোসেন এবং আলমগীর হোসেন।
এ আদালতের অতিরিক্ত পিপি কানুরাম শর্মা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে অটোরিকশা চালক মঈন উদ্দিন (২৫) স্থানীয় একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের কাছে পৌঁছালে আসামিরা যাত্রীবেশে ওই অটোরিকশায় ওঠে।
সেখানেই তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন পোর্ট কলোনি এলাকায় রাস্তার পাশে মঈন উদ্দিনের মরদেহ পাওয়া যায়।
মঈন উদ্দিনের বাড়ি নোয়াখালীর চর বৈশাখী এলাকায়। তিনি চট্টগ্রামে এসে রিকশা ও পরে অটোরিকশা চালাতেন।
এ ঘটনায় মঈন উদ্দিনের বাবা মো. আব্দুল আলী ডবলমুরিং থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই বছরের ১ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা সদরে রাস্তার পাশে কয়েকজন মিলে একটি অটোরিকশার নম্বর প্লেট তুলে ফেলার সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে।
পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। কুমিল্লার পুলিশ আসামিদের আটক করে চট্টগ্রামে পাঠালে তাদের এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এই রায় দেন।
