Published : 15 Apr 2026, 09:48 PM
কারাগারে বন্দি অবস্থায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ এবং মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
বুধবার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুমনের পক্ষে রিট আবেদনটি জমা দেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।
রিট আবেদনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং ঢাকার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৯ মে বার কাউন্সিল নির্বাচন হবে। গত ৭ এপ্রিল ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ এপ্রিল বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু সুমন বর্তমানে কারাগারে বিভিন্ন মামলায় আটক থাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে পারছেন না।
এই পরিস্থিতিতে তার স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আবেদনে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের এই ‘নিষ্ক্রিয়তার’ কারণে প্রার্থী কার্যত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৪০ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ‘সমতা, আইনের আশ্রয় লাভ এবং পেশা নির্বাচনের অধিকার’ লঙ্ঘনের শামিল।
এর আগে মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ১২ এপ্রিল ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেখান থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "গত ১২ তারিখে জেলা প্রশাসকের কাছে বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর গ্রহণের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট দাখিল করা হয়েছে।"
বিষয়টি শুনানির জন্য বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
যেহেতু মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন সামনে, তাই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার আদালতের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানান অ্যাডভোকেট লিটন।
তিনি বলেন, রিটে প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি, নির্ধারিত সময় পার হলেও যাতে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়, সে আরজি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সেই প্রশ্নে রুল চাওয়া হয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুমন।