১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুবাইয়ে নুরের বৈঠক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি চান জাপা এমপি

সরকার মুদ্রা পাচারে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলেও অভিযোগ এসেছে জাতীয় পার্টির কাছ থেকে।

দুবাইয়ে নুরের বৈঠক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি চান জাপা এমপি

দুবাইয়ে এক অনুষ্ঠানে নুরুল হক নুর। 

সংসদ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jan 2023, 11:30 PM

Updated : 09 Jan 2023, 11:30 PM

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে নিয়ে সংসদে কথা তুললেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট মেন্দি সাফাদির সঙ্গে তার বৈঠকের যে খবর ছড়িয়েছে, তার তদন্ত এবং এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছেন তিনি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচিতে যাওয়া নূরের সঙ্গে মেন্দি সাফাদির একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে।

নুর ডিসেম্বরের শেষে কাতারে যান। সেখান থেকে দুবাই হয়ে ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে গেছেন তিনি।

ওই ছবির বিষয়ে নুরের আনুষ্ঠানিক কোনো ভাষ্য পাওয়া না গেলেও সোশাল মিডিয়ায় অনেকে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কহীন ইসরায়েলের মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে ‘বৈঠকের’ সমালোচনা করছেন।

সোমবার সংসদে এই প্রসঙ্গ তুলে ফজলুর বলেন, “একটি দৈনিক পত্রিকায় এ নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই এ বিষয়টি তদন্ত করে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

পুরানো খবর:

নুর কেন দুবাইয়ে, সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন

টাকা পাচার বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান

সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রে সাহসিকতা দেখালেও মুদ্রা পাচারে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম।

সোমবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতি ক্রান্তিলগ্ন পার করছে। দেশের টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডিসেম্বরের দুই সপ্তাহে চট্টগ্রামের তিনটি কোম্পানিকে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ৫টি ইসলামিক ব্যাংককে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ সুদে ১৪ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। অথচ ইসলামিক ব্যাংক সুদে ঋণ নেয় না। তাদের নীতি-আদর্শে সুদ নামক কোনও বস্তু নেই।”

তিনি বলেন, “গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে। এই টাকা সিস্টেম থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে বেরিয়ে গেছে।

“হিসাব বলে, এই পর্যন্ত কয়েক লক্ষ হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিং হয়েছে। বাংলাদেশের দুই বছরের বাজেটের সমপরিমাণ টাকা মানি লন্ডারিং হয়েছে। কাজেই আশা করব, সরকার এ ব্যাপারে কঠিন হবে। সরকারের নেতৃত্বে যিনি আছেন তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “আর্থিক খাতের অনিয়মে কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। ১৫৮ কোটি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যায়। আর সামান্য ঋণের জন্য কৃষকদের কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে জেলখানায় নেওয়া হয়। এটা সরকারকে ভাবতে হবে।”