Published : 17 Aug 2026, 04:55 PM
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া জয়ী ও পরাজিত সব প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম (ফুয়াদ) রোববার ‘জনস্বার্থে’ এ রিট আবেদন করেন।
গত ৬ অগাস্ট নির্বাচন কমিশনের জারি করা সার্কুলার এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ২(ঘ) ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এ মামলায়।
সেখানে বিবাদী করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ৬ অগাস্টের সার্কুলারটি ‘স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’। এর মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের সরাসরি ভোট পাওয়া প্রার্থীদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’।
মামলায় বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পেয়ে বিজয়ী প্রার্থী এবং পরাজিত হলেও সরাসরি ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ‘কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই বৈষম্যমূলক বিভাজন’ তৈরি করা হয়েছে। এটি সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে থাকা ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও সম-আশ্রয় লাভের অধিকারের’ পরিপন্থি।
সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে আবেদনে বলা হয়েছে, কোনো সংবিধিবদ্ধ বিধান বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে কার্যকর করা যায় না। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসনের সব স্তরে কার্যকর অংশগ্রহণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বিবাদীরা ‘বিবেচনায় নেননি’।
রিটকারী বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়েও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ সরাসরি জনগণের সমর্থন পাওয়া পরাজিত প্রার্থীদের এ সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
“কোনো প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে জয়ী না হলেও তার পাওয়া ভোট জনগণের একটি অংশের গণতান্ত্রিক সমর্থনের প্রতিফলন।”
এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংবিধানের সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ দাবি করে তা বাতিল অথবা সীমিতভাবে ব্যাখ্যার দাবি করা হয়েছে।
পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ৬ অগাস্টের তফসিলসংক্রান্ত সার্কুলারটি কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ’ ঘোষণা করা হবে না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ২(ঘ) ধারাকে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কেন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া আবেদনকারীসহ সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী সাইফুল আলম ফুয়াদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যারা সংসদ নির্বাচনে কনটেস্ট করেছি, সকল কনটেস্টিং ক্যান্ডিডেটকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার আমরা চাই।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমানে শুধু সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকার বিধানটিই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সামগ্রিক জনগণের প্রতিনিধিদের মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে।”
সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের পাশাপাশি পরাজিত প্রার্থীদের পক্ষেও জনগণ ভোট দিয়েছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফুয়াদ বলেন, “সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার দিতে হবে।”
কোনো প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন–এক্ষেত্রে তা ‘বিবেচ্য নয়’ দাবি করে তিনি বলেন, “৫০০ ভোট পাওয়া প্রার্থীর পক্ষে ৫০০ জনের মতামত রয়েছে। এমনকি পাঁচ ভোট পাওয়া প্রার্থীর পক্ষেও পাঁচজনের মতামত রয়েছে।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ২(ঘ) ধারা সম্পর্কে ফুয়াদ বলেন, “আইনটাতে যে বলা আছে যে সংসদ সদস্যরাই কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতিকে ভোট দিতে পারবে, ওইটাকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি।”
তার দাবি, সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, “তাদের ভোট দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ করা রিটের মূল বিষয় নয়। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়েও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন, অথচ সরাসরি জনগণের ভোট পাওয়া পরাজিত প্রার্থীরা ভোট দিতে পারছেন না—এটাই মূল আপত্তি।”
ফুয়াদ বলেন, “ওরা ওদের ভোটটা দিক, অসুবিধা নাই। যেভাবে দিচ্ছে, আমাদেরকে দিতে হবে—এটা আমার দাবি।”
বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলেও তিনি জানান।
বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের নেতৃতাধীন বেঞ্চে আগামীকাল শুনানি হতে পারে বলেও তিনি জানান।
২০ অগাস্ট ভোটের তারিখ রেখে গত ৬ অগাস্ট এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ১৩ অগাস্ট, ১৬ অগাস্ট যাচাই-বাছাই হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ অগাস্ট।