Published : 01 Jan 2026, 06:28 PM
সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে সমাহিত করার পরদিন খুলে দেওয়া হয়েছে জিয়া উদ্যান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্যান উন্মুক্ত হওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, করছেন কবর জিয়ারত। কায়মনোবাক্যে দোয়া করছেন, ‘পরপারে ভালো থাকুন’।
আগের দিন জাতীয় সংসদের সামনে জনসমুদ্রের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে জিয়া উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।
নতুন বছরের প্রথম দিন সকালে ক্রিসেট লেইক সড়ক খুলে দেওয়া হলেও সমাধিস্থলে জনসাধারণকে ঢুকতে দেয়নি নিরাপত্তা রক্ষীরা। পরে বেলা ১২টার দিকে সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

এর মধ্যে সকালে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। সকালে নিরাপত্তা বেষ্টনীর সামনে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
কবর জিয়ারত করে বাবর বলেন, “আমাদের নেত্রী ছিলেন জিয়াউর রহমান আদর্শকে উড্ডীন করে রাখার একজন নেত্রী, যিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মূর্ত প্রতীক হিসেবে পরিচিত সেই নেত্রীর আদর্শ অনুসরণ করেছেন আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান।
“আপনারা সবাই আমাদের নেত্রীর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ তাআলা যেন তাকে বেহেস্তের সবচেয়ে ভালো জায়গায় স্থান দেন।”

সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার পর সমাধি প্রাঙ্গণে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের ঢল নামে। শিশু, স্কুল শিক্ষার্থী থেকে শুরু সব বয়সী নারী-পুরষ আসছেন।
খালেদা জিয়ার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, দরুদ শরিফ পড়ছেন। কাউকে কাউকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা যুবদল কর্মীরা সুলতান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কেউ ভুলে যাবে না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তাদের স্মরণ করবে এই কারণে যে, তিনি গণতন্ত্রের পতাকাকে উড্ডীন করে রাখতে নিজের সব কিছুকে বিসর্জন দিয়েছেন শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে।

“তার মতো নেত্রী বলতে পারেন যে, ‘আমার বিদেশে কোনো ঠিকানা নেই, আমাদের ঠিকানা বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের মাটি। আমি কোনোভাবে বিদেশে যাব না’… সেই নেত্রীর জানাজায় অংশ নিয়েছি গতকাল। অপেক্ষায় ছিলাম কবর জিয়ারতের। আজকে কবর জিয়ারতের সুযোগ পেয়েছি; শুকরিয়া জানাই আল্লাহর কাছে।”
বাড্ডার বাসিন্দা বিএনপিকর্মী সাইফুল আলম বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার কবর জিয়ারত করতে কত বার যে নেত্রী এসেছে তার হিসাব বলতে পারব না। আমি নিজে এসেছি, স্লোগান দিয়েছি নেত্রীর আগমনে।
“আজকে নেত্রীই নেই। আজকে তার কবর আমরা জিয়ারত করছি। এই কথা মনে হলে বুকটা ফেটে যায়; তার পরও মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন নেত্রীকে নিয়ে গেছেন, এভাবে সবাইকে চলে যেতে হবে—এটাই নিয়ম। দোয়া করি, তিনি যেন অন্তত জগতে ভালো স্থানে থাকেন, বেহেস্তে থাকেন।”

নীলফামারীর আমিনুল ইসলাম বলেন, “সেই ছোটবেলায় যখন আমি ছাত্রদল করেছি, তখন থেকে এ নেত্রীকে দেখেছি—আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতির কবরে নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে। আজকে তিনি নেই; আমরা বিএনপি এতিম হয়ে গেছি।
“তবে এটা দেখে সাহস পাই, যখন গতকাল নেত্রীর জানাজায় জনসমুদ্র দেখে যে—আমরা এতিম হলেও আমাদের নেত্রীর পথ ধরে জাতীয়তাবাদের পতাকা উড্ডীন রাখবেন দেশনায়ক তারেক রহমান।”
যোগাযোগ করা হলে লুৎফুজ্জামান বাবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে বাসায় থাকতে ইচ্ছা করছিল না। নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে এসেছি। দেশনেত্রী অনন্তকালে চলে গেছেন; কিন্তু তার আদর্শ আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে।
“গণতন্ত্রের সেই দেখানো পথে বিএনপি চলবে, আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান সেই পথে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবেন।”
৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী; আর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার।