Published : 16 Jul 2025, 08:03 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে কী হচ্ছে, এমন প্রশ্ন রেখেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার দুপুরের পর থেকে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষে শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নতুন দলটির নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আটকা পড়েন।
সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জামায়াত আমির তার ফেইসবুকে ৫টা ২০ মিনিটে পোস্ট দিয়ে গোপালগঞ্জের বিষয়ে এমন প্রশ্ন রাখেন।
তিনি লেখেন, ‘‘গোপালগঞ্জে কী হচ্ছে? গোপালগঞ্জ তো বাংলাদেশেরই অংশ। যতদূর জানতে পেরেছি, এনসিপির নেতৃবৃন্দ স্বাভাবিক নিয়মে সর্বপর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ব থেকেই আলাপ-আলোচনা করে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা চেয়েছেন। এটি তাদের রাজনৈতিক অধিকার।
‘‘এখন যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, কার্যত মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো উপস্থিতিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অতি দ্রুত সরকারকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের পূর্ণ দায় সরকারের ওপরে বর্তাবে।”
এনসিপির দেশজুড়ে পদযাত্রার মধ্যে বুধবার গোপালগঞ্জে পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি ছিল। এ কর্মসূচি ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলানো হয়।
বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এসবের মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে এসে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।
পরে পুলিশ ও এনসিপির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশি নিরাপত্তায় টেকেরহাট হয়ে মাদারীপুর যাওয়ার পথে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের হামলার মুখে পড়েন।
এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ পরিস্থিতিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে তারা শহর ছাড়েন।
হামলার ঘটনার মধ্যে দুপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। পরে বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ জারির কথা জানায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষের ঘটনায় শহরে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে।
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বুধবার বিকাল ৫টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের এখানে তিনজনের মরদেহ আনা হয়েছে।”
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জামায়াত আমির শফিকুর ফেইসবুক পোস্টে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণকে সব ধরনের ‘উশৃঙ্খলতা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘শান্তিপ্রিয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।
‘‘মহান আল্লাহ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তার সাহায্য প্রেরণ করুন, আমিন।”